ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এতে করে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ তীব্র হয়েছে এবং মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় চার সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা এই সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি বৈঠকের দিকে নজর রাখছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫৮৫.২১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও ২ শতাংশ কমে ৪,৫৯৮.৪০ ডলারে নেমে এসেছে।
জেনার মেটালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র মেটালস স্ট্র্যাটেজিস্ট পিটার গ্রান্ট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা আবার বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হরমুজ প্রণালী এখনো বন্ধ রয়েছে। এতে তেলের দাম বেড়েছে এবং ফেডের বৈঠকের আগে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগও নতুন করে তৈরি হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে ট্রাম্প সন্তুষ্ট নন। ফলে সংঘাতের সমাধানের সম্ভাবনা কমে গেছে। এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়েছে এবং হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে।যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় এই দাম কিছুটা কমেছে।তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ায় এবং সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি করে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, উচ্চ সুদের হার এ ধরনের অ-ফলনশীল সম্পদের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, বুধবার শেষ হওয়া দুই দিনের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। পাশাপাশি ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যের দিকেও নজর থাকবে।এই সপ্তাহে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং ব্যাংক অব কানাডার নীতিগত সিদ্ধান্তও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ভোক্তা চীন মার্চ মাসে ৪৭.৮৬৬ মেট্রিক টন স্বর্ণ আমদানি করেছে, যা ফেব্রুয়ারির ৪৬.২৪৯ টনের তুলনায় বেশি। হংকংয়ের আদমশুমারি ও পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অন্যান্য ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ৩.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২.৯৯ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১.৯ শতাংশ কমে ১,৯৫৬.৬৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৯ শতাংশ কমে ১,৪৬৩.৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও কমতে পারে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।
এর আগে সবশেষ আজ ২৮ এপ্রিল সকালে দেশের বাজারে সমন্বয় করা হয়েছিল স্বর্ণের ও রুপার দাম। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ২ হাজার ২১৬ টাকা ও ২৩৩ টাকা কমানো হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এছাড়া বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। আর ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :