শনিবার, ০১ মার্চ, ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১

গোয়ালন্দে প্রতিদিন কোটি টাকার বালু লুট,প্রশাসন নির্বিকার

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫, ০৮:২৪ পিএম

গোয়ালন্দে প্রতিদিন কোটি টাকার বালু লুট,প্রশাসন নির্বিকার

 রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চলছে বালু লুটের মচ্ছব। উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মহিদাপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে প্রতিদিন অন্তত তিন কোটি টাকার বালু লুটে নিচ্ছে একটি চক্র। গত বুধবার রাজবাড়ী জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বালু লুট চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন আলম শেখ নামে এক ব্যক্তি। ফরিদপুরের সিএন্ডবি ঘাট এলাকার এই ব্যক্তি দেড় মাস ধরে পাঁচটি ড্রেজার দিয়ে দিনরাত নদী থেকে বালু তুলছেন। প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০টি বাল্কহেডে এই বালু অন্যত্র নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি বাল্কহেড নিচ্ছে ১০ হাজার ফুট বালু। প্রতি ফুট বালু তিন টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করছে চক্রটি। অর্থাৎ প্রতিটি বাল্কহেড থেকে আদায় করা হচ্ছে ৩৫ হাজার টাকা। এ হিসেবে প্রতিদিন ৩ কোটি টাকার বেশি বালু লুট করা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, আমরা নিরীহ মানুষ। বালু লুট চক্রের সদস্যরা প্রভাবশালী। তারা অনেক টাকা-পয়সার মালিক। টাকা দিয়ে তারা সবার মুখ বন্ধ করে রাখছে। আমরা ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছি না। কারণ তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়ালে বিপদ হতে পারে। তারা নানাভাবে হয়রানি করতে পারেন। কিন্তু এভাবে বালু তুলতে নদী ভাঙতে পারে। রাস্তা-ঘাট, ফসলী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়া ব্যক্তির নাম আসলাম প্রানিক। তিনি মহিদাপুর গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই বালু মহাল ইজারা না দেওয়া সত্বেও আলম শেখ গং লোড ড্রেজার স্থাপন করে দিনরাত অবৈধভাবে বালু তুলছেন। এটা আইন পরিপন্থী। এলাকাবাসী তাদের বারবার বালু না তুলতে নিষেধ করেছে। নৌ পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এরপরও বালু উত্তোলন থামছে না। বালু উত্তোলনের ফলে এলাকাবাসীর ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, পাকারাস্তা ও সরকারি স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। বালু উত্তোলন বন্ধ এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে এই অভিযোগে।
অভিযোগের বিষয়ে আলম শেখ বলেন, তিনি বালু উত্তোলন করছেন না। তার কোনও ড্রেজার নেই। তিনি ওখান থেকে বালু কিনে আনেন। অবৈধ বালু কেনা অপরাধ কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি বৈধ বালু কিনছেন। বালু উত্তোলন করা হচ্ছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার নেছরাগঞ্জ ইউনিয়নের চর থেকে। ওই চর একজন ইজারা নিয়েছেন। কে ইজারা নিয়েছেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপে ওয়ার্ক অর্ডার পাঠাচ্ছি। এই বলেই তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রেসপন্স করেননি।
আলম শেখের এই দাবির বিষয়ে স্থানীয়রা বলছেন, ডেজারের মালিক আলম শেখ। তিনি যেখান থেকে বালু উত্তোলন করছেন; সেখান থেকে নেছরাগঞ্জ ইউনিয়নের ওই চরের দূরত্ব অন্তত ৫ কিলোমিটার। বালু উত্তোলন করা হচ্ছে চরমহিদাপুর থেকে; যা গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের অংশ। প্রশাসন সরেজমিনে এলেই ঘটনার সত্যতা পাবে।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আলম শেখ একজন ধূর্ত প্রকৃতির লোক। একই সঙ্গে টাকাওয়ালা। ফলে তার বিরুদ্ধে গিয়ে কারও টিকে থাকা কঠিন। স্থানীয়দের চাপের মুখে তিনি ড্রেজার কিছুটা নদীর ভেতরে নিয়ে গেছেন। এখন তিনি দাবি করছেন বালু তোলা হচ্ছে নেছরাগঞ্জ থেকে; যা ডাহা মিথ্যা কথা। 
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদুল ইসলাম  বলেন, আসলাম প্রামানিক নামে এক লোক জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর একটা কপি তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে তার ফোন নম্বর নেই। ফলে তার সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। যোগাযোগ করতে পারলে কোথায় বালু উত্তোলন হচ্ছে, ট্রেস করা সহজ হতো। তিনি বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা মাধেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করছি। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি পুলিশ দেখে না। এটা দেখে থাকে উপজেলা প্রশাসন। আপনি ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।
 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!