শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

নিবন্ধন গ্রহীতাকারি মৃত্যুশয্যায় প্রতারক চক্রের হাতে আলোকিত বাংলাদেশ প্রিন্ট ও অনলাইন!

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

নিবন্ধন গ্রহীতাকারি মৃত্যুশয্যায় প্রতারক চক্রের হাতে আলোকিত বাংলাদেশ প্রিন্ট ও অনলাইন!

আইন-অপরাধ ডেস্ক: অর্ধমৃত বাকরুদ্ধ শয্যাসায়ী কাজি রফিকুল আলমকে সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে এবার প্রিন্টার্স লাইনে প্রকাশক হিসাবে তার নাম প্রিন্ট ও অনলাইনে ছেপে প্রকাশ করা হচ্ছে আলোকিত বাংলাদেশ।

পত্রিকাটির প্রিন্ট ও অনলাইনের সার্বিক তথ্য গোপন করে নিবন্ধন গ্রহীতার সার্বিক তথ্য গোপন রেখে নবায়ন রেজিষ্টেশন সার্টিফিকেট না নিয়েই গত ৩ বছর যাবত চালানো হচ্ছে অনলাইন ভার্সন।

জানা গেছে নিবন্ধন গ্রহীতাকারি কাজি রফিকুল আলম গুরুতর অসুস্থ হয়ে অর্ধমৃত ও জবান বন্ধ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছেন প্রায় ৩ বছর। মৃত্যুশয্যায় থাকা সম্পাদক ও প্রকাশকের এমন তথ্য গোপন করে জালিয়াত চক্র ঢাকা আহছানিযা মিশনের আলোকিত বাংলাদেশ চালিয়ে সরকারের ১২-১৪ কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের টাকা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নামে হাতিয়েছে।

পত্রিকাটির  প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে সম্পাদক ও প্রকাশকের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান চালানো হলেও তিনি প্রতারক চক্রের এসব অপরাধের তথ্য কিছুই জানেননা।

পত্রিকাটির সমস্ত দায়ভার মৃতপ্রায় কাজি রফিকুল আলমের উপরে চাপিয়ে প্রতারবক চক্রটি ৩ বছর যাবত ফায়দা লুটে খাচ্ছে।চত্রটি কৌশলে পক্রিকাটির অনলাইলের নবায়ন নিবরন্ধন পত্র পিআইডি থেকে উওোলন করার চেষ্টা করছে। তবে এখন অবৈধ নতুন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দেখিয়ে গত ৩ বছরে করা নানারকম অবৈধ কাজ বৈধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে পত্রিকাটিতে চলমান অডিট টিম এখন কি করবে? ফরমায়েসি অডিট নাকি আইন সিদ্ধ?

মৃত্যুশয্যায় থাকা সম্পাদক ও প্রকাশক গত ৩ বছর যাবত আলোকিত বাংলাদেশ সংক্রান্ত কোনো আবেদনেই স্বাক্ষর করতে পারেননি বলে অনলাইনের নিবন্ধন নবায়নপত্র ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারক চক্র।

প্রতারক চক্রের এসব বিষয় নিয়ে তথ্য ফাঁস হওয়ার পরে হঠাৎ করেই পত্রিকাটির প্রিন্টার্স লাইনে দেখা যায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমান ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের নাম।

প্রশ্ন হচ্ছে তাকে এ পদে কে নিয়োগ দিলেন? তার কোনো তথ্য নেই। নিযোগ যিনি দিবেন তিনি মৃত্যুশয্যায় বিছানায়।

প্রশ্ন হচ্ছে এভাবে কোন আইনের বিধি-বিধানের আওতায় এমন রহস্যজনক নিয়োগ গোলাম রহমান নিলেন কেমনে?
অভিযোগ উঠেছে জালিয়াত চক্র তাদের নানারকম অপকর্ম থেকে বাচঁতে ফের জালিয়াতির আশ্রয় নিলেন গোলাম রহমান।

গোলাম রহমান এর আগে বলেছিলেন আলোকিত মিডিয়া লিমিটেড পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাজি রফিকুল আলম যতদিন বেচেঁ থাকবেক ততদিন পত্রিকাটির সম্পাদব ও প্রকাশক থাকবেন।
পর্ষদের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলো কবে? আলোকিত মিডিয়া লি:-এর পরিচালনা  পর্ষদের সভা হলো কবে? পর্ষদ সদস্যরা কিছুই জানেনা।

এদিকে পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে একজন মৃত্যুবরন করাসহ বাকিরা নিষ্ক্রিয় থাকা সত্বেও সিদ্ধান্ত হলো কিভাবে?
আলোকিত বাংলাদেশের পুরো মালিকানা হলেও ডাম নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল কি?

এস আলম গ্রুপসহ আলোকিত বাংলাদেশে অন্যান্য বিনিয়োগকারিদের বক্তব্য কি?

প্রশ্ন হচ্ছে কাকে বাচাঁনোর জন্য গোলাম রহমান ্ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন?

সম্পাদক ও প্রকাশক কাজি রফিকুল আলম প্রায় ৩ বছর আগে পদত্যাগ করে থাকলে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে কেনো জানানো হয়নি? তিনি যে মৃত্যুশয্যায় বিছানায় পরে আছেন তাও কেনো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়নি? কিসের জন্য এসব প্রতারণা-জালিয়াতি?

অভিযোগ রয়েছে ডাম ও আলোকিত বাংলাদেশের মতলববাজ সিন্ডিকেট নিয়ে নানারকম অপরাধ-জালিয়াতি করার অপরাধ ও পাওনাদারদের মামলা থেকে আগামীতে বাচঁতে ও বাচাঁতে তিনি অপকৌশলে এই পদে আসিন হয়েছেন?

অপরাধ ঢাকতে আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের দোহায় দিয়ে জালিয়াত চক্রটি এসব করছেন বলে ডাম সূত্র জানিয়েছে।

সুত্র জানায় সরকার যার নামে পত্রিকাটি ডিক্লেরেশন দিয়েছে সম্পাদক ও প্রকাশক আছেন তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন কে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বে আনবেন-নেবেন।
এক্ষেত্রেও কি জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে?

প্রশ্ন হচ্ছে আলোকিত মিডিয়া পরিচালনা পর্ষদের কে আছে কে নেই,সভা কবে হলো,রেজুলেশন নিজেদের মতো করে লেখে পুরোনো স্বাক্ষরপত্র জুড়ে দেওয়া এসবই কি এখন আলোকিত বাংলাদেশ নিয়ে হচ্ছে?

সম্পাদক ও প্রকাশককে না জানিয়ে লিখিত অনুমোদন না নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করলো কিভাবে? এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কাজ করা হচ্ছে?

ডাম থেকে আলোকিত বাংলাদেশে আবুল কালাম আজাদ ডেপুটেশনে এসে তার আবেদনে ডাম সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সিন-সাইন করে নিলেই কি আইনগত অনুমোদন হয়?

সম্পাদক ও প্রকাশক কাজি রফিকুল আলম জীবীত থাকাবস্থায় বা কাউকে লিখিত অনুমোদন না দেওয়ায় গোলাম রহমানের দিক-নির্দেশনায় তার মাইম্যান আজাদ ইতোপূর্বে আলোকিত বাংলাদেশে পলিসি সিদ্ধান্ত-নিয়োগ ও অর্থ খরচ করাসহ যা যা করেছেন সবই সরকারি আইনে ও তথ্যসম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের ডিএফপি আইনে অবৈধ?

সম্পাদক ও প্রকাশক কাজি রফিকুল আলমের গুরুকর অসুস্থতার তথ্য ও তার পদত্যাগপত্র কার্যকর করতে গত ৩ বছর গোপন করেছেন গোলাম রহমান ও তার সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট।

এসব আইনগত বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বরাবরে অফিসিয়ালি কোনো চিটিও দেয়নি আলোকিত মিডিয়া লিমিটেড।

এদিকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ব্যাংক নম্বর দেওয়া রয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর। কিন্তু খোজ নিয়ে জানা গেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরের জায়গায় প্রাইম ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর বসানো হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে এই জালিয়াতির হেতু কি?

ডাম সভাপতি যা করছেন তার এসব কাজকে এখন বলা যায় ত্রিপোল জালিয়াতি!

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!