বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

পেটের জন্য দইয়ের উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১২:১৮ এএম

পেটের জন্য দইয়ের উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক: সবসময় পেট ভাল রাখতে দই খুব উপকরী। দইয়ের প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। আবার পেট ভাল না থাকলে চিকিৎসকেরা দইয়ের ঘোল খাওয়ারও পরামর্শ দেন। তা হলে কোনটি সেরা? কারা কোনটি খেলে বেশি উপকার পাবেন?
টক দই খাওয়া শরীরের জন্য খুবই ভাল।
সকালের খাবারে হোক বা দুপুরের খাবার খাওয়ার পরে এক বাটি টক দই খেলে হজম ভাল হয়। আবার  টক দইয়ের সঙ্গে শসা খান অনেকে। আসল কথা হল, পেটের জন্য যে খাবারগুলি ভাল,তার মধ্যে তালিকায় প্রথমেই আছে টক দই। ডায়েট নিয়ে যাঁরা সচেতন, তাঁরা প্রোবায়োটিক কথাটির সঙ্গে পরিচিত।
ইদানীং অবশ্য ইন্টারনেটের দৌলতে প্রোবায়োটিক পরিচিত নামই হয়ে উঠেছে। প্রোবায়োটিক হল কিছু ভাল ব্যাক্টেরিয়া, যারা হজমে সাহায্য করে। এই প্রোবায়োটিকের অন্যতম উৎস হল দই। কাজেই দই যে পেটের জন্য ভাল তা আর বলে দিতে হয় না।
দই ভাল করে ফেটিয়ে তার সঙ্গে পুদিনা, জিরে, আদা ও খানিক মশলা মিশিয়ে ঘোল বানিয়েও খাওয়া হয়। সেটিও উপকারী। এখন কথা হল, দই না দইয়ের ঘোল, কোনটির উপকার বেশি?
পেটের সমস্যা অথবা খাবার খেতে অরুচি,যে কোনও সমস্যাতেই পেট ভরানোর জন্য দই বা দইয়ের ঘোল খাওয়ারই পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। দু’টিই উপকারী। কিন্তু কারও জন্য দই বেশি ভাল, আবার কেউ ঘোল খেলে বেশি উপকার পাবেন।তবে পুষ্টিগুণের বিচারে, সহজপাচ্য হল দইয়ের ঘোল। যাঁরা অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা দইয়ের ঘোল খেলে বেশি উপকার পাবেন।
দই যাদের জন্য ভাল?
দইয়ে ক্যালশিয়াম,ফসফরাস ও ভিটামিন বি-১২ প্রচুর পরিমাণে থাকে। হাড় মজবুত করতে সহায়ক দই। পেশি গঠনে সাহায্য করে। শিশুদের হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য দই খুব কার্যকর। দই ল্যাকটিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা অন্ত্রে ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে হজমশক্তি আরও ভাল করে। দই তাঁরাই বেশি খেতে পারেন যাঁদের প্রোটিন বেশি প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন বা কোনও সংক্রামক রোগে ভুগেছেন, তা হলে দই খেলে উপকার বেশি পাবেন। আবার গ্যাস-অম্বলের সমস্যা নেই, ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁরাও দই খেলে উপকার বেশি পাবেন।
দইয়ের ঘোল যাদের জন্য উপকারী?
বদহজম,গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা দইয়ের বদলে ঘোল খেলে বেশি উপকার পাবেন। ঘোল শরীরকে আর্দ্র রাখবে। ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার সমস্যা যাঁদের বেশি হয়, তাঁরা দইয়ের ঘোল নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।খাবারে অরুচি হলে আদা, বিট নুন এবং জিরেগুঁড়ো মিশিয়ে ঘোল খেলে রুচি বাড়বে। ঘোলে ক্যালোরি ও ফ্যাট দইয়ের চেয়ে কম, তাই স্থূলত্ব রয়েছে যাঁদের তাঁরা নিয়মিত ঘোল খেলে উপকার পাবেন। এতে মেদ ঝরবে তাড়াতাড়ি।
ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স থাকলে অর্থাৎ, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জি থাকলে দইয়ের চেয়ে ঘোলই বেশি উপকারে আসবে। দীর্ঘ সময় ধরে হাঁপানি, সিওপিডি বা শ্বাসজনিত সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য দই উপযুক্ত নয়। কারণ দই খেলে শ্লেষ্মা আরও বেড়ে যাবে। বদলে ঘোল খেলে উপকার বেশি হবে।
রমজান মাসে মানুষের প্রত্যাহিক জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। কারণ ইফতার, সাহরি ও তারাবির নামাজ পড়তে হয়। যেগুলো অন্য মাসে করা লাগে না।  খাবার ও ঘুমের সময় বদলে যাওয়ায় অনেকেরই ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়।
তাই সুস্থ থাকতে এ সময়ে সঠিক খাবার নির্বাচন ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।অনেক সময় রাতের খাবারের পরও হালকা ক্ষুধা অনুভূত হয়। এ সময় ভাজাপোড়া বা ভারী খাবার খেলে যেমন ওজন বাড়তে পারে, তেমনি ঘুমও ব্যাহত হতে পারে। তাই ঘুমের আগে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া ভালো, যা শরীরকে স্বস্তি দেবে এবং ঘুমও ভালো করতে সাহায্য করবে।
ডিম-রাতের খাবারে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উপকারী। ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে একটি সিদ্ধ ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। ডিমের উচ্চমানের প্রোটিন শরীরের শক্তি বজায় রাখতে এবং পেশি পুনর্গঠনে সহায়ক। সাধারণত রাতে ডিম খেলে হজমজনিত সমস্যাও কম হয়, ফলে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।মরিচ-ডিনারে অল্প ঝাল রাখা যেতে পারে। কাঁচা মরিচ বা সামান্য মরিচের গুঁড়া খাবারের সঙ্গে খেলে শরীরের তাপ উৎপাদন প্রক্রিয়া কিছুটা বাড়ে, যা ক্যালোরি খরচে সহায়তা করতে পারে। এতে বিপাকক্রিয়াও সক্রিয় থাকে। চাইলে হালকা গরম পানিতে সামান্য মরিচ গুঁড়া মিশিয়েও পান করা যেতে পারে।
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার-ওজন নিয়ন্ত্রণে অ্যাপেল সিডার ভিনিগার অনেকেই ব্যবহার করেন।-এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে ঘুমানোর প্রায় আধা ঘণ্টা আগে পান করলে হজমে উপকার পাওয়া যেতে পারে এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় হতে পারে। তবে যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত।
ক্যামোমাইল পানীয়
ঘুমের জন্য ভেষজ পানীয় বেশ উপকারী। ক্যামোমাইল চা শরীর ও মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে পারে এবং প্রদাহ কমাতেও ভূমিকা রাখে। ঘুমানোর প্রায় ৩০ মিনিট আগে এক কাপ ক্যামোমাইল চা পান করলে আরামদায়ক ঘুম হতে পারে।
সচেতনভাবে খাবার খেলে রমজানে ভালো ঘুম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই ভারী খাবারের বদলে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার হতে পারে আদর্শ খাবার।
সেহরিতে যা করবেন-শেষ সময়ে সেহরি : সেহরি একদম শেষ সময়ের কাছাকাছি সময়ে করুন।
এতে সারা দিন শরীর ক্লান্ত হবে না এবং সুগার কমে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
সঠিক খাবার : লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি বা ওটস খান। সঙ্গে মাছ, মাংস, ডাল এবং প্রচুর শাকসবজি রাখুন। সম্ভব হলে এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন।
ইফতারে যা করবেন-শুরুটা হোক খেজুর দিয়ে : একটি খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করুন (কিডনি সমস্যা থাকলে খেজুর এড়িয়ে চলুন)।
ভাজাপোড়া বর্জন : বেগুনি বা চপ জাতীয় ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। এর বদলে চিড়া, মুড়ি, টক দই বা ডাবের পানি খেতে পারেন।
বেশি পানি পান : ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন যাতে শরীরে পানির অভাব না হয়।
ওষুধ ও চেকআপ-সুগার মাপা : রোজার সময় নিয়মিত মেশিনে রক্তে সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করুন। মাত্রা খুব বেশি বা কম মনে হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
ডাক্তারের পরামর্শ : রোজা শুরুর আগেই ইনসুলিন বা ওষুধের ডোজ এবং সময় সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিন। সাধারণত সকালের ওষুধ ইফতারে এবং রাতের ওষুধ সেহরিতে খেতে হয়।
শারীরিক পরিশ্রম-তারাবিহ নামাজ পড়লে আলাদা করে ব্যায়ামের প্রয়োজন হয় না।
তবে রোজা রেখে খুব বেশি পরিশ্রমের কাজ করবেন না। রক্তে সুগারের মাত্রা অস্বাভাবিক কমে গেলে বা শরীর খুব বেশি খারাপ লাগলে দেরি না করে রোজা ভেঙে ফেলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রমজানের কয়েক দিন যেতেই অনেকের সাধারণ অভিযোগ— সারা দিন ভালো থাকলেও ইফতারের পর শরীর ভীষণ ভারী হয়ে আসে, চোখে ঘুম নামে আর পেটে অস্বস্তি শুরু হয়। অনেকেই একে রোজার ক্লান্তি মনে করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এর আসল কারণ আমাদের অন্ত্র বা গাট হেলথের ভারসাম্যহীনতা।
আমাদের পরিপাকতন্ত্রে কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যাদের বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োটা। এরা শুধু খাবার হজমই করে না, শরীরের ৭০ শতাংশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও নিয়ন্ত্রণ করে।
এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলেই পেট ফাঁপা, এসিডিটি বা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।
কেন ইফতারের পর শরীর খারাপ লাগে?
সারা দিন বিরতির পর ইফতারে যখন আমরা একসাথে অনেক ভাজাপোড়া, মিষ্টি বা ভারী খাবার খাই, তখন পাকস্থলী হঠাৎ চাপে পড়ে যায়। দ্রুত খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রে খাবার স্বাভাবিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাস ও প্রদাহ তৈরি করে। ফলে পেট শক্ত হয়ে যায় এবং শরীর নিস্তেজ লাগে।
পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে গেলে শরীর খাবার থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে পেট ভরে খেয়েও আপনি দুর্বল বোধ করেন।
রোজা কি শরীরের ক্ষতি করে?
না, বরং রোজা অন্ত্রের জন্য একটি ক্লিনিং প্রসেস বা পরিষ্কার অভিযান। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় অন্ত্র বাড়তি ব্যাকটেরিয়া ও জমে থাকা খাদ্যকণা সরিয়ে নিজেকে সতেজ করার সুযোগ পায়।
কিন্তু ভুল খাদ্যাভ্যাস এই সুযোগকে নষ্ট করে দেয়।
সুস্থ থাকার ৫টি সহজ উপায়
১। ধীরগতিতে শুরু : খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করে কিছুক্ষণ বিরতি দিন। একবারে বেশি খাবেন না।
২।হালকা খাবার : শুরুতে স্যুপ বা ফলজাতীয় হালকা খাবার বেছে নিন। ভাজাপোড়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৩। প্রোবায়োটিক যুক্ত করুন : দই বা এ জাতীয় খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে।
৪। সাহরিতে সচেতনতা : সাহরিতে আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, লাল চাল) এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৫। মনোযোগ দিয়ে চিবিয়ে খাওয়া : খাবার ভালো করে চিবিয়ে খেলে হজমের কষ্ট অর্ধেক কমে যায়।
রমজান শরীরকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। একটু সচেতন হয়ে অন্ত্রের যত্ন নিলে রোজা হবে ক্লান্তির বদলে প্রাণবন্ত ও স্বস্তিদায়ক।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!