ডেইলি খবর ডেস্ক: তাপমাত্রা সাথে এবার বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন জেলায় তাপপ্রবাহের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন বজ্রবৃষ্টি ও বজ্রপাতে শুক্রবার অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি বেড়েছে জনজীবনে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী আরও চার থেকে পাঁচ দিন এমন গরম ও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির পরিস্থিতি থাকতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশের ১৩ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর মধ্যে রাজশাহী ও বাগেরহাটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাতক্ষীরায় ৩৬ দশমিক ৮, পটুয়াখালীতে ৩৬ দশমিক ৭, যশোর, ফেনী ও বান্দরবানে ৩৬ দশমিক ৬, নোয়াখালীতে ৩৬ দশমিক ৫ এবং মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বাগেরহাটের মোংলা ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজধানীতেও গরমের তীব্রতা ছিল বেশি। সকাল থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, ঢাকায় ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বৃষ্টির পরও কমেনি ভ্যাপসা গরম। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী বৃহস্পতিবারের পর থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করতে পারে। তাপপ্রবাহের পাশাপাশি আগামী দুদিন প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। যার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও জানান, বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। তাই বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয় বা উঁচু স্থানে অবস্থানকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু এলাকায় শুক্রবার বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান কৃষক মো. মালেক (৪০)। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে নিহত হন কৃষক ইদ্রিস আলী ফকির (৬৫)। ভোলার লালমোহনে বজ্রপাতে প্রাণ হারায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিন (১১)। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা শ্রমিক স্বপন মুণ্ডা (২৩) এবং রাজনগরে হাওরে ধান কাটতে থাকা কৃষক তালেব মিয়া (৪০) বজ্রপাতে মারা যান। নেত্রকোনার আটপাড়ায় নিহত হন সোলায়মান মিয়া (২২)। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে বজ্রপাতে মারা যান ফয়সাল বেপারী (৩৫)। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পর্শে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন হৃদয় হোসেন (২২) ও আশরাফ আলী (২৭)।
চলতি মে মাসের শুরুতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ছিল। মাসের প্রথম অর্ধেকে তাপমাত্রা সহনীয় ছিল। তবে এর পর থেকেই বাড়তে শুরু করে গরম। প্রায় পাঁচ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি কমে, বাড়ে রোদের তেজ। গত বুধবার চলতি মাসে প্রথমবারের মতো তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :