শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

অভিমত: ভিসা বন্ড অনৈতিক ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রেরই-ড. তাসনিম সিদ্দিকী

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

অভিমত: ভিসা বন্ড অনৈতিক ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রেরই-ড. তাসনিম সিদ্দিকী

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের ভিসা পেতে জামানতের যে নিয়ম চালু করা হচ্ছে, তা দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানবাধিকারপন্থি নীতির ধারাবাহিকতা মাত্র। ভিসা বন্ড অনৈতিক। এ জন্য ক্ষতি হবে যুক্তরাষ্ট্রেরই। 
অভিবাসনবিরোধী মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রে চাঙ্গা করতেই ট্রাম্প বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রাপ্তিতে ৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার ডলার জামানত বা ভিসা বন্ড চালু করেছেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বা অন্য দেশগুলোর করণীয় কিছু নেই। সম্মিলিতভাবেও কিছু করার নেই।
ট্রাম্প যেসব নীতি গ্রহণ করেছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রে আগামী সরকার না আসা পর্যন্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই দুর্ভাগ্যজনক। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়াতে অভিবাসনের সুযোগ কমাচ্ছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রেরই দুর্ভোগ হবে। কারণ,অভিবাসী কর্মী ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। 
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার মেয়াদের চেয়ে বেশি দিন থাকা বা ওভারস্টের জন্য ট্রাম্প ভিসা বন্ড চালু করেছেন।এত জামানত রেখে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর সাধারণ নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সম্ভব হবে না। ধনীদের জন্য অসুবিধা হবে না। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, অন্য দেশের সাধারণ মেধাবী নাগরিকরা দেশটিতে গিয়ে কাজ করায়, যুক্তরাষ্ট্রের আজকের উন্নতি হয়েছে। স্বল্প মজুরিতে শ্রমসাধ্য কাজ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা করবেন না। ফলে ট্রাম্পের রক্ষণশীল অভিবাসন নীতি দেশটির অর্থনীতির জন্য ক্ষতি করবে। 
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও অন্যান্য দেশের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের দায় রয়েছে। যেমন রোমানিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মসংস্থান হতো, যা এখন বন্ধের পথে। কারণ বাংলাদেশি কর্মীরা রোমিনিয়ায় গিয়ে সেখানে চাকরি না করে ইউরোপের অন্যান্য দেশে চলে গেছেন। ভিসার এসব অপব্যবহারের কারণে বাংলাদেশকে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। 
বিদেশের মাটিতে নিয়মকানুন মেনে না চলার মানসিকতা ছাড়াও বড় আরেকটি সমস্যা হলো দক্ষতার অভাব। বাংলাদেশি কর্মীরা যে কাজের দক্ষতা দেখিয়ে বিদেশ যাচ্ছেন, তা অনেক ক্ষেত্রেই জাল। শিক্ষকের সনদ পর্যন্ত ভুয়া। এই প্রবণতা থেকে বের হতে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। দক্ষতায় উন্নতি করতে হবে। দক্ষ কর্মী তৈরি করতে হবে। 
বাংলাদেশে বহু বছর স্বৈরাচারী ব্যবস্থা ছিল। সব ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ব্যবস্থা থেকে বের হতে হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মমুখী করতে হবে। বছরে কত লাখ কর্মী বিদেশ যাচ্ছে; এর চেয়ে মনোযোগী হতে হবে কত সংখ্যক দক্ষ কর্মী পাঠানো হচ্ছে। 
রিক্রুটিং এজেন্সি, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কর্মীরা যে দেশে ভিসা নিয়ে যাচ্ছেন, সে দেশে থাকছেন কিনা তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। যারা কর্মী পাঠিয়েছে এবং পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে, কর্মী পালালে, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করলে, তাদের দায় নিতে হবে।

 ড. তাসনিম সিদ্দিকী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নির্বাহী পরিচালক, রামারু
 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!