ক্র্যাব-বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন এর ইফতার মাহফিল !
সারওয়ার বাবর চৌধুরী: অনেকটা আগেভাগেই হাজির হয়েছিলাম ! কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পারসন হিসেবে ধর্তব্যে পড়িনা বলে আগে এসেও কাজ হয়নি ! মূলভবনের খালি সিট ফেলে বাইরের প্যান্ডেলে এসে একাই বসে থাকি।
ভেতরে অবশ্য ক্র্যাব প্রেসিডেন্ট মির্জা মেহেদী তমালের দেখা পাই ! দূর থেকে হাত নেড়ে `হাই` দিয়ে চলে আসি। প্যান্ডেলে এসেই দেখা ক্র্যাব সেক্রেটারি এম (মো: বাদশা মিয়া) বাদশাহর সঙ্গে। অনেক দিন সাক্ষাৎ ছিলনা। কুশলাদি বিনিময়টা হলো খুব সংক্ষেপে। একা-একা বসে থাকার মধ্যে কোনো আনন্দ নেই। কিন্তু মজার এবং গোপন বিষয়টি হচ্ছে, একাকিত্বই আমার খুব প্রিয় !
হঠাৎ শামীম সিদ্দিকী ভাইয়ের কণ্ঠ-(শামীম সিদ্দিকী) ! তাকে দেখেই সালাম দিলাম। একজন ডাকসাইটে সাংবাদিক। আমি পাশে বসার মিনতি করি ! কিন্তু শামীম ভাই বললেন, অন্য দিকে বসার কথা ছিল। আপনাকে দেখে আর গেলাম না। তিনি আরও বললেন, ফেসবুকে আপনি কিছু সাহসী এবং চমৎকার লেখা দিচ্ছেন। বেশ লাগে। পড়ি, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো ভীতিহীন হয়নি বলে অনেক লেখা পড়ে খুশি হই, মৃদু হাসি কিন্তু লাইক কমেন্ট পর্যন্ত যেতে পারিনা।
আমি মুগ্ধ হয়ে শামীম ভাইয়ের কথাগুলো শুনি। মনে হলো, রবীন্দ্রনাথ শুনছি.."আহা আজি এ বসন্তে..এতো বাঁশি বাজে..এতো পাখি গায়.."
শামীম ভাই এবার বলেন, আমার একটা অনলাইন আছে। সেখানেও আপনি লেখা দিতে পারেন। অনলাইনটা পুরনো এবং প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে। সার্চ দিয়ে সেটি দেখতে যাই তক্ষুনি সেখানে আসেন, গিয়াস ভাই(গিয়াস উদ্দিন) তিনি ডিআরইউ`র ইফতারের দিনেও আমার পাশে বসার প্রতিশ্রুতি দ্যান। তখন সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি। আজ মিস হলোনা। এইসময় দূর থেকে চাঁদের আলোর মতো দেখা দিলেন, নজরুল ইসলাম মিঠু (এনআই মিঠু)। আমি এবং গিয়াস ভাই চিৎকার করে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করি। তিনি কাছে আসতেই মজা করে বলি, না দেখার ভান করে লাভ হবেনা। আমরা এইভাবে ডেকে নিতে জানি। তিনি উল্টো অনুযোগ করে বললেন, আমি আপনাকে আরও আগেই দেখেছি, বাইকে। ডাকও দিই, শোনেননি ! আমি তখন বলি, ওঃ তাই নাকি? সরি, খেয়াল করিনি।
মিঠু ভাইকে জোর করে বসালেন গিয়াস ভাই। আমি জোর করতে চাইনি। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পারসন। ডিআরইউ সাবেক সভাপতি। কিন্তু তিনি আমাদের অবাক করে দিয়ে ভেতরে তার জন্য নির্ধারিত সিট ত্যাগ করেই এখানেই বসলেন। ভেতরে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং দেশের সেরা রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ অতিথি হিসেবে পৌঁছে গ্যাছেন। মিঠু ভাইকে দেখতে পেয়ে একই কাণ্ড ঘটালেন আবুল হোসেন ভাই। তিনি ক্র্যাব-এর সাবেক সিনিয়র সভাপতিদের একজন। তাকে বারবার ভেতরে আসন গ্রহণের অনুরোধ করছিলেন কমিটির কেউ কেউ। কিন্তু তিনিও নির্দ্বিধায় সিংহাসন ত্যাগ করলেন। আমরা হাসি।
কৃতজ্ঞতার হাসি এটি। আসলে অন্যকে সম্মান করলেই নিজেকে সম্মানিত করা যায়, এই প্রবাদ বচনটির বাস্তব প্রমাণ দিলেন নজরুল ইসলাম মিঠু, আবুল হোসেন, শামীম সিদ্দিকী এবং গিয়াসউদ্দিন। ইফতারে আমার প্রিয় গরুর মাংসসহ ভালো কিছু খাবারের আইটেম ছিল। ছিল আমের ডাল। সবাই বেশ তৃপ্তি নিয়ে খেলাম। ক্র্যাবের খাবার আয়োজন এরইমধ্যে বিভিন্ন সংগঠন এবং অনুষ্ঠানে খাওয়া সব আয়োজনকে ফেল মেরে দিলো। খাওয়ার সময় আমি খুব টেনশনে ছিলাম।
সাদা পায়রার মতো শার্ট পরে গিয়েছি। এক ফোটা ঝোল পড়া মানেই শার্টের বারোটা বাজা সারা ! আমার বিব্রতকর ভাবটি বুঝতে পেরে মিঠু ভাই এবার মজা করলেন, কাজ হবেনা। শার্ট বাঁচানো যাবেনা ! আমি আহত সুরে বলি, বউ নিষেধ করেছিলেন। মিঠু ভাই বললেন, বউয়ের কথা মানা উচিত ছিল। আমি তখন হেসে বলি, বউদের কথা শুনে বর্তমানে খুব কম লোকই বিপদ এড়াতে পারে। একথায়ও হাসি ওঠে।
খাওয়া শেষে মিঠু ভাই যথারীতি বিদায় জানালেন। সবাই চলে গেলেও আমি আর শামীম ভাই আরও কিছুক্ষণ বসে থাকি। এটা ওটা মুখে দিচ্ছি। শামীম ভাই, একসময় বড় পত্রিকায় কাজ করেছেন। বড় পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন। সাংবাদিক সমাজের তিনি সবার প্রিয় মুখ তিনি শেষবারের মতো তখনও আমায় মনে করিয়ে দ্যান-লেখা দিতে ভুলবেন না যেন। আমি শামীম ভাইয়ের এমন সম্মানে আবারও মুগ্ধ হই ! বাকহারা হই!
আমার হচ্ছে অভাবের সংসার। একটু থেমে থেকে দুষ্টুমি করে বলেও বসি, পয়সা পাবো তো ? শামীম ভাই সাথে সাথে বলে ওঠেন, অবশ্যই। আপনাকে অতিথি রাইটার হিসেবে অনারী দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে সত্যিসত্যিই খুব ভালো লাগলো ইফতার মাহফিলটা। এই অনুভূতিটা হয়তো আরও আবেগ দিয়ে প্রকাশ করা যেতো। পারছিইনা। কথা আছেনা, অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর? আমার এইরকমই একটা কিছু হয়েছে মনে হয়। এই উদাহরণটি এখানে ঠিক খাপ খায়নি ! হা হা..
আগের দিন রাতেই.. ক্র্যাব প্রেসিডেন্ট তমাল ভাই (মির্জা মেহেদি তমাল) নিজে থেকে আমার জন্যএকটা ম্যাসেজ লিখে পাঠিয়েছিলেন, "ভাই চলে আসবেন ! " সেই কথাটিও ফিরতি পথে মনের গভীরে কোথাও গুনগুনিয়ে মন কাড়ার গানের সুর ভাজছিল..

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :