খুব বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। আইসিসি ইভেন্ট থেকে শুরু করে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ সবখানেই তাদের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিম্নমুখী। ঘরের মাঠ, বিদেশের মাঠ-কোথাও প্রতপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্ব›িদ্বতাই করতে পারছে না পাকিস্তান।এ বছর এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ ম্যাচ খেলে পাকিস্তান জিতেছে কেবল ৩টিতে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক হয়েও পাকিস্তান কোনো ম্যাচ না জিতেই গ্রæপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে। এমনকি কদিন আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সালমান আলী আগাকে অধিনায়ক করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। মোহাম্মদ রিজওয়ান, বাবর আজমদেরও বাদ দিয়ে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়া হয়। তাতেও সুফল পাচ্ছে না পাকিস্তান।
পাকিস্তানের এমন দুর্দশা দেখে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি মহসিন নাকভিকে তুলোধুনো করেছেন কামরান আকমল। নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে আকমল বলেন, ‘এটা বিব্রতকর। পিসিবি সভাপতির ভাবা উচিত যদি সেটা নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তাহলে তার অবশ্যই পদত্যাগ করা উচিত। দয়া করে আপনার সুনাম নষ্ট করবেন না। যদি সেটা করতে না পারেন, তাহলে দলের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন করুক।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তান হেরেছে ৪-১ ব্যবধান। রিজওয়ানের নেতৃত্বে পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজটাও খুইয়েছে এক ম্যাচ আগেই। টি-টোয়েন্টির মতো ওয়ানডে সিরিজেও পাকিস্তানি বোলাররা বেধড়ক পিটুনি খেয়েছেন। তাদের পিটিয়ে রেকর্ড গড়ছে নিউজিল্যান্ড। ২৯ মার্চ নেপিয়ার মুহাম্মদ আব্বাসের অভিষেকে রেকর্ড গড়া ফিফটিতে কিউইরা ৩৪৪ রানের পাহাড়সমান স্কোর করে কিউইরা। আর হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে ডেথ ওভারে ঝড় তুলে ৩০০ ছুঁইছুঁই স্কোর করে নিউজিল্যান্ড। দুই ম্যাচেই ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বাজেভাবে হারে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের বোলারদের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্স দেখে হতাশ আকমল। পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার বলেন,‘যদি পাকিস্তানি বোলাররা এমন উইকেটেও বোলিং না করতে পারে, তাহলে কোথায় পারবে? এশিয়ার মাঠে তাদের দাবি, বোলারদের জন্য কিছু নেই। যে মাঠে কিছু না কিছু থাকে, সেখানেও তারা (পাকিস্তানের বোলার) কিছু করতে পারে না। আমাদের বিপক্ষে কি এখন শারীরিকভাবে অক্ষম ক্রিকেটারদের খেলানো উচিত? কোথায় বোলিং করতে হবে, সেটাই আমরা জানি না। এর অর্থ হলো অবশ্যই পরিবর্তন করা উচিত।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা পেয়েছেন আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে। সাপ্তাহিকর্যাঙ্কিং গতকাল আইসিসি হালনাগাদ করলে দেখা যায়, টি-টোয়েন্টিতে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ এগিয়ে শীর্ষে উঠেছেন জ্যাকব ডাফি। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট নিয়েছেন ডাফি। আর ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়ে আট নম্বরে উঠে এসেছেন টিম সাইফার্ট। ২০৭.৫০ স্ট্রাইকরেটে সেই সিরিজে ২৪৯ রান করেন সাইফার্ট।
আপনার মতামত লিখুন :