স্পোর্টস ডেস্ক: নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি আর্জেন্টিনার। ওদিকে স্পেনের সামনে আছে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ।এই ম্যাচের লাইভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন যুগান্তর অনলাইনে।
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন-দাঁতে দাঁত চেপে রক্ষণকাজটা সেরেছে স্পেন। শেষ বাঁশি বাজতেই স্প্যানিয়ার্ডরা ফেটে পড়ল উচ্ছ্বাসে। আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে ইউরোপের এই দেশ। আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন।
তরেসের গোলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দুয়ারে স্পেন-১০৫ মিনিটে গোলের দেখা পেল স্পেন। বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বলটা মাঠের ভেতরে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। সেটা অনেকটা ফাঁকায় পেয়ে যান ফেররান তরেস। এরপরই তা আগুনে এক শটে জালে জড়ান তরেস। বিশ্বকাপ শিরোপা থেকে ১৪ মিনিটের দূরত্বে স্পেন।
গোল মিস মেরিনোর! বড় একটা সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন মিকেল মেরিনো। বাম পাশ থেকে ভেসে আসা ক্রসে ফাঁকায় বলটা পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার হেডটা লক্ষ্যে থাকলেই গোল হয়ে যেতে পারত। কিন্তু তার সে ফ্রি হেডার বেরিয়ে গেল লক্ষ্যের বাইরে দিয়ে।
আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়েও গোল পেল না স্পেন-মিকেল মেরিনোর শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন মার্তিনেজ, ফিরতি শটে নিকো উইলিয়ামস বলটা জড়ালেন জালে। তবে উদযাপনের আগেই গোলটা বাতিল করে দিলেন রেফারি। কারণ প্রথম শটের আগে মেরিনো ফাউল করেছিলেন নিকলাস ওতামেন্দিকে।
খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে-নির্ধারিত সময়েও গোলের দেখা মিলল না। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে, অন্তত ৩০ মিনিট খেলা চলবেই এখন।
ইয়ামালের ফ্রি কিক দারুণভাবে ঠেকালেন মার্তিনেজ-বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি কিক পেয়েছিল স্পেন। সেখান থেকে দারুণ এক কিক নিয়েছিলেন লামিন ইয়ামাল। তবে মার্তিনেজের দারুণ সেভ ম্যাচে টিকিয়ে রাখল আর্জেন্টিনাকে।
লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন এনজো-মাঝমাঠের ওপরে একটা বল ক্লিয়ার করতে উঠে এসেছিলেন পাউ কুবারসি। বলের দখলও পেয়েছিলেন আগেই, বলের দখলের লড়াইয়ে হারের পর কুবারসির পায়ে লাগে এনজো ফার্নান্দেজের পা। সেটাই কাল হলো তার। আগেই একটা হলুদ কার্ডে ছিলেন এনজো। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হলো তাকে। ১০ জনের দলে পরিণত হলো আর্জেন্টিনা।
অভিনয় করে হলুদ কার্ড দেখলেন এনজো-প্রতি আক্রমণে উঠছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাক অ্যালিস্টার বলটা বাড়াচ্ছিলেন সামনে। অফ দ্য বলে রান নিচ্ছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। রদ্রি এর্নান্দেজের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে গেল যেন। মাটিতে পড়ে গেলেন এনজো। তবে রেফারি তাকে অভিনয়ের কারণে হলুদ কার্ড দেখালেন।
মাঠে আসছেন স্পেনের সুপারসাব-মিকেল মেরিনো পরপর দুটি নকআউট ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে গোল করে জিতিয়েছিলেন স্পেনকে। সেই মিকেল মেরিনোকে আজ ৭৫ মিনিটেই নামিয়ে দিয়েছেন স্পেন কোচ। সঙ্গে এসেছেন নিকো উইলিয়ামস। তাদের বদলে উঠে যাচ্ছেন দানি অলমো আর অ্যালেক্স বায়েনা।
দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের আগেও গোলের দেখা মিলল না-আগের ৪৫ মিনিটের মতো দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর ২২ মিনিটেও শ্রেয়তর প্রতিপক্ষ স্পেনই। কোনোরকমে তাদের ঠেকিয়ে রাখছে আর্জেন্টিনা। হাইড্রেশন ব্রেকের ডাক এল তখনই। তার আগে কোনো দলই গোলের দেখা পেল না।
স্পেনের দারুণ আক্রমণ ঠেকালেন মন্তিয়েল-মাঝমাঠ থেকে আসা বল নিয়ে দারুণভাবে আক্রমণে ঢুকে গিয়েছিলেন দানি অলমো। সেখান থেকে তিনি কাটব্যাক করেছিলেন কুকুরেয়ার জন্য। তবে তার আগেই দারুণভাবে বলটা ক্লিয়ার করেছেন গনজালো মন্তিয়েল। বিপদ থেকে রক্ষা পেল আর্জেন্টিনা।
মাঠে নামার ৬ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখলেন পারেদেস-দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নেমেছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মাঠে আসার ষষ্ঠ মিনিটে তিনি ফাউল করে বসলেন ওইয়েরজাবালকে। মাঝমাঠের কাছে অফ দ্য বলে ফাউল করেছিলেন তিনি, এরপর সেখানে আরও এক ধাক্কা দেন পারেদেস। ফলে রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান।
মাঠে এলেন পারেদেস-ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০ মিনিট খেলেছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ইংলিশদের মাঝমাঠ অনেকটাই নিস্ক্রিয় রেখেছিলেন তিনি। আজ তাকে দলে রাখেননি স্কালোনি। তবে বিরতির ঠিক পরই তাকে মাঠে আনতে বাধ্য হলেন আর্জেন্টিনা কোচ। নিকো গনজালেসকে তুলে নিলেন তার বদলে।
শুরুর অর্ধে গোল পেল না কোনো দল-শুরুর ৪৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা-স্পেনের কোনো দলই গোলের দেখা পেল না। ০-০ স্কোরলাইন নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে।
৪৪ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে হলো মার্তিনেজকে-কিছুক্ষণ আগেই হলুদ কার্ড দেখেছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তার একটু পর চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাকে। ৪৪ মিনিটে তার বদলে মাঠে নামলেন নিকলাস ওতামেন্দি।
কুকুরেয়ার শট বেরিয়ে গেল বাইরে দিয়ে-বক্সের বাইরে থেকে আর্জেন্টিনা রক্ষণকে চমকেই দিয়েছিলেন মার্ক কুকুরেয়া। তার বাম পায়ের শটটা অবশ্য শেষমেশ বেরিয়ে গেল দূরের পোস্টেরও বাইরে দিয়ে।
হলুদ কার্ড দেখলেন লিসান্দ্রো-আর্জেন্টিনার আক্রমণ ঠেকিয়ে ওইয়েরজাবালের কল্যাণে একটা প্রতি আক্রমণে উঠছিল স্পেন। তবে সেটা প্রতিপক্ষ অর্ধেই ফাউল করে ঠেকালেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। বড় সুযোগ ফাউল করে ঠেকানোর দায়ে রেফারি পকেট থেকে বের করলেন হলুদ কার্ড। ম্যাচের ৪০ মিনিটে প্রথম কার্ডের দেখা মিলল এবারের ফাইনালে।
এবার ওইয়েরজাবালের শট ঠেকালেন মার্তিনেজ-৩৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শট নিয়েছিলেন মিকেল ওইয়েরজাবাল। তবে তার শটটা বেশ সহজেই ঠেকালেন এমি মার্তিনেজ।
আর্জেন্টিনাকে তাদেরই কৌশলে আটকে রাখছে স্পেন-ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমার্ধে একের পর এক ট্যাকটিকাল ফাউলে খেলাটা দুর্বিষহ করে তুলেছিল আর্জেন্টিনা। ঠিক তেমন না হলেও আর্জেন্টিনাকে আজ স্পেন একই কৌশলে আটকে রাখছে।
মাঝমাঠে পারেদেসের অনুপস্থিতিটা ভালোভাবেই টের পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তার অনুপস্থিতিতে ৪ জনের মিডফিল্ডকেও ভালোভাবেই চাপে রেখেছে স্পেন। শারীরিক ফুটবলের সঙ্গে টেকনিক্যালিটির মিশেলে স্প্যানিশরাই হয়ে উঠেছে শ্রেয়তর দল।
হাইড্রেশন ব্রেকের আগে স্পেনই বেশি আক্রমণ করেছে। বলের দখল রেখেছে ৬৫ শতাংশ সময়, শটও তাদেরই বেশি, ১টি।
এবার ইয়ামালের ক্রস ঠেকালেন মার্তিনেজ-ডান পাশ থেকে আক্রমণে উঠে লামিন ইয়ামাল একটা নিচু ক্রস করেছিলেন বক্সে। তবে তার এই ক্রস একটু সামনে এসে আয়ত্বে নিয়েছেন এমি মার্তিনেজ।
ফাইনালে প্রথম শট ইয়ামালের, দারুণ সেভ মার্তিনেজের-বিশ্বকাপ ফাইনালের পঞ্চম মিনিটেই গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল স্পেন। বক্সের ভেতর ডান পাশে বল পেয়ে গিয়েছিলেন ইয়ামাল। তার শটটা দারুণভাবে ঠেকালেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন দুই দেশকে প্রথম বিশ্বজয়ের স্বাদ দেওয়া দুজন-১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন মারিও আলবার্তো কেম্পেস। ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে প্রথম শিরোপা জিতেছিল স্পেন। দুই দল আজ যখন মুখোমুখি, তখন শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক।
হেলিকপ্টারে চড়ে ফাইনালে হাজির ট্রাম্প-বিশ্বকাপের ফাইনালে থাকার কথা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বকাপের এই ফাইনালে শুরু থেকেই আছেন, কিছুক্ষণ আগে তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে এসেছেন নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে।
স্পেন একাদশ অপরিবর্তিত স্পেনের একাদশ:সিমন;পোরো, কুবারসি, লাপোর্তে, কুকুরেয়া রদ্রি, রুইজ;
ইয়ামাল, ওলমো, বায়েনাওইয়েরজাবাল।
আর্জেন্টিনার ফাইনালের একাদশে ৩ পরিবর্তন-বিশ্বকাপের ফাইনালের একাদশে আর্জেন্টিনা ৩টি পরিবর্তন নিয়ে নামছে। গঞ্জালো মন্তিয়েল খেলবেন নাহুয়েল মলিনার জায়গায়। রদ্রিগো দে পল একাদশে ফিরেছেন জুলিয়ানো সিমিওনের জায়গায়। ফিটনেস সমস্যায় নেই লিয়ান্দ্রো পারেদেস, তার জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন নিকোলাস গঞ্জালেস।
আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত একাদশ-এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো;
রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, নিকোলাস গঞ্জালেস;
লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :