ডেইলি খবর ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, হত্যা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। দেশটির প্রত্যাশা, এসব ইস্যুর সমাধান বাংলাদেশ নিজেই করবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দ্বিসাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই বিবৃতিতে দুর্গাপূজা উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে গত তিন মাসে হত্যা ১৪১টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ধারাবাহিক চেষ্টা চলছে বলে সংগঠনটির অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন ওই সাংবাদিক।
এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ এসব বিষয় সমাধানে পদক্ষেপ নেবে।’
উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ অক্টোবর) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কড়া পাহারায় সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের ঘটনাকে ‘দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছে।
সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তদের ঘৃণ্য তৎপরতা ততই বাড়ছে দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের আংশিক চালচিত্র থেকে দেখা যায়, হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি; ধর্ষণ/শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে ৪টি; মন্দিরে হামলা ও লুটপাট, জায়গা দখল ও বিগ্রহ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ৩৬টি।
এ ছাড়া কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে ঐক্য পরিষদ বিবৃতিতে বলেছে, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে সাতটি। বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ১১টি। হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে ২৬টি। জমি/সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। অপহরণ, হত্যার হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে ৩টি। চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে ৪টি ও অন্যান্য ঘটনা ১৪টি।
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিবের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
এক সাংবাদিক বলেন, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিল্লিতে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিব অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে যথাযথ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব না করার ঘটনা এটি দ্বিতীয়বার বলেও মন্তব্য করেন ওই সাংবাদিক। এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপটি ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে বিমসটেকের সব সদস্যদেশ অংশ নিয়েছে। বৈঠক শেষে দিল্লি ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, মাদক এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিমসটেকের সব সদস্যদেশের অঙ্গীকার করেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এই উদ্বোধনী সংলাপের মধ্য দিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশসহ বিমসটেকের অন্য সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিয়েছেন।’সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :