মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

মমতার দুর্গে বিজেপির হানা, গেরুয়া শিবিরের বাংলা দখল

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ০১:০৩ এএম

মমতার দুর্গে বিজেপির হানা, গেরুয়া শিবিরের বাংলা দখল

ডেইলি খবর ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ভারতের নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফলাফল সামনে এসেছে, যেখানে বিজেপি ১৯৮টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং আরও ১০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৬৯টি আসনে জয় পেয়েছে এবং ৯টি আসনে এগিয়ে আছে।
রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা অনেক আগেই অতিক্রম করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে বিজেপি। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, গেরুয়া শিবির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে! জনগণের শক্তির জয় হয়েছে ও বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে’।
শুভেন্দুর কাছে হারলেন মমতা
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল নন্দীগ্রাম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের ‘ঘর’ বলে পরিচিত কেন্দ্রগুলোর ফলাফল। বিদায়ি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
জয় নিশ্চিত করার পর কলকাতার শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্র থেকে নথি হাতে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো খুব দরকার ছিল। এই জয় হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দেওয়া কর্মীদের উৎসর্গ করলাম’।
পরাজয় মানতে নারাজ মমতা, ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ-নির্বাচনি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে একে ‘অনৈতিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বিজেপি জালিয়াতি করে ১০০টিরও বেশি আসন চুরি করেছে। নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপি কমিশনে পরিণত হয়েছে’।
মমতা আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগসাজশে জোরপূর্বক ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) পরিচালনা ও কাউন্টিং এজেন্টদের গ্রেপ্তার করে এই জয় হাসিল করা হয়েছে। তিনি ঘোষণা দেন, এই ‘অনৈতিক’ জয়ের বিরুদ্ধে তাঁর দল লড়াই চালিয়ে যাবে।
তৃণমূল ও বিজেপির এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে কংগ্রেস এবং সিপিআই (এম) মাত্র দুটি করে আসনে জয়ী হতে পেরেছে। এছাড়া অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট (এআইএসএফ) জয় পেয়েছে একটি আসনে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি এ দফায় আসামের নির্বাচনেও বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
এদিকে ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অশান্তি দমনে সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলাশাসক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।ছবি-সংগৃহীত
 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!