মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আবার হামলা করলে যেভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে ইরান-নিউইয়র্ক টাইমস

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আবার হামলা করলে যেভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে ইরান-নিউইয়র্ক টাইমস

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এক দিন পর তিনি জানান, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলায় পরিকল্পিত নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
তবে ইরানিরা সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলো ও বিশ্ব অর্থনীতির কাছ থেকে এর চরম মূল্য আদায় করতে দ্বিধা করবে না।
ইরান কী আশঙ্কা করছে-চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’–এর ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হামিদরেজা আজিজি বলেন, চলতি বছরের প্রথম দফার যুদ্ধে ইরানিরা প্রায় তিন মাসের একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
নতুন করে যেকোনো লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যাতে শত্রুকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশও বদলে দেওয়া যায়।
হামিদরেজা আজিজি, ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স
এর ফলে ইসরায়েল ও আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রেখেছিল বলে মনে করেন আজিজি।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বিপরীতে এবার যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরানি নেতারা ধারণা করছেন যে এ লড়াই হবে ‘স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র’। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত ও ভারী হামলাও চালানো হতে পারে। আজিজি ইরানের সরকারঘনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বা নিরাপত্তাকাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রকাশ্য মন্তব্যগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছেন।
এবার যেভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে ইরান-হামিদরেজা আজিজি বলেন, নতুন করে যেকোনো লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যাতে শত্রুকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশও বদলে দেওয়া যায়। এর ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর তীব্র হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও বন্দরগুলোয় আঘাত হানা হলো বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা এবং ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়গুলোর একটি। যদি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক ব্যাপক হয়, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এ যুদ্ধে আরও অনেক বেশি জড়িয়ে পড়তে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক নেতাই এ পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে ইরানের ওপর হামলায় সাহায্য করেছে, এমন মনোভাব থেকে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানি কর্মকর্তা ও সরকারঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকেরা তীব্র আমিরাতবিরোধী হুমকি ও বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ইরানের ওপর গোপনে হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকদের একজন মেহেদি খারাতিয়ান। গত মাসে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই আমিরাতকে উটে চড়ার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং আমরা তা করতে পারি। প্রয়োজন হলে আমরা আবুধাবি দখল করব।’
আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো আলী আলফোনেহ এক ই–মেইলে বলেছেন, বক্তব্যগুলো যতই অতিরঞ্জিত হোক না কেন, এগুলো ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্বের ‘গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে’।
সম্ভাব্য সৌদি-ইরান অনাক্রমণ চুক্তির (নন-অ্যাগ্রেশন প্যাক্ট) খবরগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অবাস্তব’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন আলফোনেহ। তিনি বলেন, তেল উৎপাদনকারী বড় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলার এই হুমকিই এখনো ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে সংযত রাখার হাতে গোনা কয়েকটি নিয়ামকের একটি।
ইরান বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবহন করা হয়। সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত।
ইরানের হাতে আর কী কী ‘কার্ড’ আছে-ইরান বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবহন করা হয়। সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত।
গত দফার লড়াইয়ে ইরানিরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছে। হামিদরেজা আজিজি বলেন, যদি ইরান সরকার মনে করে, এ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সংকটের মুখে পড়েছে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটির পরিবর্তে দুটি সামুদ্রিক ফ্রন্টে মনোযোগ দিতে বাধ্য করতে চাইতে পারে।
মেহেদি খারাতিয়ান গত মাসে পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে ইরান বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল সীমিত করে এর পাল্টা জবাব দেবে।
এটা করা হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে এ কৌশল শেষ পর্যন্ত জটিল জায়গায় গিয়ে ঠেকতে পারে।
আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হলে হুতি মিলিশিয়ারা ইরানকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছে। তবে গত দফার লড়াইয়ে তারা বেশ সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। বিশ্লেষকেরা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, গোষ্ঠীটি তাদের ফুরিয়ে আসতে থাকা সামরিক মজুত থেকে ঠিক কতটুকু ব্যবহারের সামর্থ্য রাখে, সেই হিসাব-নিকাশ করছে। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!