বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ২৫৪ জন নিহত, আহত অন্তত ১১০০

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ২৫৪ জন নিহত, আহত অন্তত ১১০০

ডেইলি খবর ডেস্ক : লেবাননে গত মাসে ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর বুধবার সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে।
মৃতের সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল বৈরুতে, যেখানে ৯১ জন নিহত হয়েছেন। তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মৃতের সংখ্যা ১৮২ জন বলে জানিয়েছে এবং বলেছে যে এটি চূড়ান্ত সংখ্যা নয়।
রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার বিকেলে রাজধানী বৈরুতে পরপর অন্তত ৫টি হামলা চালানো হয়, যার ফলে আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলাটি চালিয়েছে। ১০ মিনিটের মধ্যে বৈরুত, বেকা উপত্যকা ও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার ভোরে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তারা মানারা নামের ছোট কিবুতজটিতে রকেট হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
গত ২ মার্চ শুরু হওয়া যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন ছিল বুধবার। এর দুই দিন আগে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ তেহরানের সমর্থনে ইসরায়েলে গুলি চালায়।এর জবাবে ইসরায়েল একটি পুরোদস্তুর বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে।
রয়টার্সের সাংবাদিকরা দেখেছেন, বৈরুতের পশ্চিমাঞ্চলের একটি ভবন থেকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা একজন বয়স্ক নারীকে ক্রেনে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। ইসরায়েলি হামলায় ভবনটির অর্ধেক অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ায় ওপরের তলার বাসিন্দারা আটকা পড়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সময়মতো পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় লোকজন মোটরসাইকেলে করে আহতদের তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, ‘লেবাননে আজ যে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তার মাত্রা ভয়াবহ ছাড়া আর কিছুই নয়।ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন হত্যাকাণ্ড অবিশ্বাস্য।’রয়টার্সের সরাসরি সম্প্রচার অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে একটি ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অংশ নয় এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর শক্তি প্রয়োগ করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বুধবার বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনার সৃষ্টি। আমার ধারণা, ইরানিরা ভেবেছিল যে যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আসলে তা ছিল না।’এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছিলেন, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এদিকে হিজবুল্লাহ বুধবার ভোরেই ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ করে দিয়েছে বলে দলটির ঘনিষ্ঠ তিনটি লেবানিজ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আল-মুসাউই রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছিল যে এটি যুদ্ধবিরতির অংশ—তাই আমরা তা মেনে চলেছি, কিন্তু ইসরায়েল বরাবরের মতোই তা লঙ্ঘন করেছে এবং সারা লেবানন জুড়ে গণহত্যা চালিয়েছে।’সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!