শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরানের ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ হুমকির মধ্যে তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

ইরানের ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ হুমকির মধ্যে তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে শুরু হওয়া কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার।

এ লক্ষ্যে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে গিয়ে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, চলমান সংকট প্রশমিত করা এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার নতুন পথ তৈরি করাই এ সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।

এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ওই প্রক্রিয়ায় কাতারও ভূমিকা রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার পর সেই সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তেহরান।

সম্প্রতি ইরানের অন্তত পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় হতাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পর থেকেই ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানের সংশয় আরও বেড়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া বাঘের গালিবাফ বলেছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। তার ভাষায়, প্রয়োজন হলে দেশটি ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ জন্যও প্রস্তুত।

তেহরানের কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, চাপ সৃষ্টি করে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সমাধান চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের অবস্থান, আলোচনায় অগ্রগতি চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গীকার দেখাতে হবে।

বিশেষ করে প্রথম ও পঞ্চম শর্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে ইরান। প্রথম শর্ত অনুযায়ী, লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। আর পঞ্চম শর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া সমঝোতা স্মারকের ১০ নম্বর শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি তেল রপ্তানির অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তেহরান।

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আশাবাদ ক্রমেই কমছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যথেষ্ট সন্দিহান।

প্রতিবেদনে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, অন্তর্র্বতী সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়নে ইরান প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ফলে নতুন করে বিস্তৃত পরিসরের পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে এসেছে।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরান যদি ভূগর্ভে সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরে রাজি না হয়, তাহলে নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তির সম্ভাবনা থাকবে না। ফাইল ছবি


 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!