ডেইলি খবর ডেস্ক: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের দ্বিসাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
বাংলাদেশের এক মন্ত্রী সম্প্রতি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে নতুন করে পর্যালোচনার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (এনএসএ) ঢাকা সফরের খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকা সফরের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য বা হালনাগাদ খবর নেই।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আবারও জাতিসংঘে কাশ্মীর ইস্যু তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং এটি ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে কোনো বহিঃস্থ পক্ষের কোনো অধিকার বা এখতিয়ার নেই।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে ভারত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর প্রকাশিত আইবিএসএ যৌথ বিবৃতিতে গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন না করার কথা বলা হয়েছে।
ভারত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন নিয়ে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কোনো আলোচনা করেছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বৈঠকে উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানে অটল রয়েছে।
পারস্য উপসাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং সেখানে কর্মরত ভারতীয় নাবিকের সংখ্যা সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রণধীর জয়সোয়াল বলেন, পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে ভারতের ছয়টি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। এ ছাড়া ভারতের দিকে আসা ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে ১২টি জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজে ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া পুরো অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দেশটির নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো নিয়মিত এসব নাবিকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সম্প্রতি হাঙ্গেরির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) তুরস্কের সদস্যপদের বিরোধিতা করেছে বলে দাবি করা হয়। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এসসিওতে নতুন কোনো সদস্য নেওয়ার বিষয়টি সংগঠনটির সব সদস্যরাষ্ট্রের সর্বসম্মত ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :