বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে ইসরায়েলির কারণে

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে ইসরায়েলির কারণে

ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর প্রায় ছয় সপ্তাহ পর বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। দিনটিকে এ সংঘাতের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে বিবেচিত করা হচ্ছে।আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ইসরায়েল দাবি করেছে, এসব হামলায় তারা হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেমের এক সহযোগীকেও হত্যা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলাগুলো ঘটে। এসব হামলা পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা কমার আশাতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। খবর আল জাজিরার। 
যুদ্ধবিরতির আওতা নিয়ে বিভ্রান্তি-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে বলেন, এটি লেবাননসহ সব ফ্রন্টে কার্যকর হবে। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, যুদ্ধবিরতি কেবল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। লেবানন এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরে স্পষ্ট করেন, লেবাননের সংঘাত আলাদা বিষয়।এই মতপার্থক্য যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
লেবাননে ইসরায়েলের হামলার চিত্র-যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই ইসরায়েল লেবাননজুড়ে ১০০টির বেশি স্থানে হামলা চালায়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, বৈরুত, বেকা ভ্যালি ও দক্ষিণ লেবাননে এসব হামলায় কমপক্ষে ২৫৪ জন নিহত এবং ১১৬৫ জন আহত হয়েছেন।ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার কারণে হাসপাতালগুলো রোগীতে উপচে পড়ছে এবং জরুরি সেবাগুলো চাপের মুখে পড়েছে।
জাতিসংঘ এ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে আখ্যা দিয়েছে। এছাড়া লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এটিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ বলেছেন।কেন লেবানন গুরুত্বপূর্ণ-লেবানন ইস্যু ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হিজবুল্লাহ তাদের অন্যতম শক্তিশালী আঞ্চলিক মিত্র। এটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ‘রেজিস্ট্যান্স অক্ষ’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যদি যুদ্ধবিরতির সময়েও লেবাননে হামলা চলতে থাকে, তাহলে ইরানের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে ইরান তার প্রভাব ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননকে যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখা হলে ইরান প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে, যা পুরো যুদ্ধবিরতিকে ভেঙে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া-বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লেবাননে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। কাতার এটিকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করেছে। মিশর বলেছে, এটি শান্তি প্রচেষ্টাকে নষ্ট করার ইচ্ছাকৃত চেষ্টা। 
এছাড়া তুরস্ক সতর্ক করে বলেছে, এতে মানবিক সংকট আরও বাড়বে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, এতে যুদ্ধবিরতি গুরুতর চাপে পড়েছে।জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। সবমিলিয়ে, লেবানন ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে দুর্বল দিক হয়ে উঠেছে। যদি এই ফ্রন্টে সহিংসতা বন্ধ না হয়, তাহলে পুরো চুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রবল এবং মধ্যপ্রাচ্য আবারও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে যেতে পারে।ছবি-সংগৃহীত

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!