মনোহরদী( নরসিংদী)প্রতিনিধি একজন মানবিক ইউএনও মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমএ মুহাইমিন আল জিহান। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর তিনি মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে উপজেলা ব্যাপি সকল সরকারি, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে দ্বায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণে ফিরে এসেছে । উপজেলার সকল সেক্টরে এক অভাবনীয় আমুল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এতে করে উপজেলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণ এর সুফল পেতে শুরু করেন।
শুরু থেকেই তিনি সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মানুষকে সচেতন করছেন, এ ছাড়াও তিনি শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র, এতিম শিশুদের মাঝে উন্নত মানের খাদ্য সরবরাহ,দরিদ্র কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণসহ হতদরিদ্র সাধারণ মানুষের পাশে এগিয়ে গিয়ে সবসময় তাদের পাশে থেকে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগিয়েছেন। সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি ঘাম ঝড়া পরিশ্রম করে তিন তিনটি দফতরের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি । প্রতিমাসে নিজের বেতনের কিছু টাকা ব্যয় করছেন উপজেলার হতদরিদ্র মানুষের সেবায়।
`সেবাই ধর্ম আর জনসেবাই জনপ্রশাসন` এই প্রতিপাদ্যকে লালন করে তিনি একাধারে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কাজ পাগল মানুষ বলতে যা বোঝায় এ যেন ঠিক তাই! সকাল নয়টা থেকে শুরু করে রাত বারোটা পর্যন্ত দাফতরিক কাজ করা এটা যেন তার প্রতিদিনের রুটিন। দাফতরিক কাজের স্বার্থে কোনো কোনো দিন রাত বারোটার পরেও তাকে অফিস করতে দেখা যায়।
তিন দফতরের কাজের পাশাপাশিও তিনি উপজেলার বিভিন্ন হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক নারী-পুরুষ ,গরিব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ানো প্রতিদিনের রুটিনের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে মনোহরদী উপজেলার ইউএনও এমএ মুহাইমিন আল জিহান।
রাত দিন এভাবেই তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। যেখানেই আইনের লঙ্ঘন সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম পরিচালনা তো রয়েছেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন রোধ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে মালামাল মজুদকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ ঘোষণা ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নিত্যদিনের কাজ ।
যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও আর্তমানবতার সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ইতোমধ্যে তিনি ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন। সৎসাহস ও সদিচ্ছা থাকলে একজন মানুষ অনেক কিছু বদলে দিতে পারেন তা প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি।
কথাবার্তায় মার্জিত ও আচার আচরণে অত্যন্ত ভদ্র, সাদামাটা, সহজ-সরল স্বভাবের এই মানুষটি মাত্র এক বছর পাঁচ মাসে উপজেলাবাসীর মন জয় করে নিয়েছেন। সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা, বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ প্রতিকারে আশ্রয়স্থলের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন ইউএনও মুহাইমিন আল জিহান। বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলো জমকালো এবং দৃষ্টিনন্দন করে পালন করার নজির সবার মুখে মুখে। উপজেলাজুড়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
তিনি যোগদানের পরে উপজেলা পরিষদের আবাসিক কোয়ার্টার গুলো বাসযোগ্য করে তোলা, অডিটোরিয়ামের সংস্কার , পুরানো বিল্ডিংয়ে রং করে নতুন রূপে সৌন্দর্যবর্ধন করা এবং মুক্তিযোদ্ধা ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় নকলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তিনি নিজে ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেয়াসহ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, স্কাউটিং, খেলাধুলা এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।
অনেক গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহযোগিতা করে চলেছেন জনবান্ধব ইউএনও জিহান। উপজেলায় দিন দিন যোগ হচ্ছে উন্নয়নের নতুন মাত্রা। তার সততা ও কর্মদক্ষতায় পাল্টে গেছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক চিত্র। প্রতিটা দফতরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ঐক্য ও মনোবল সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তারা সময়ের দিকে লক্ষ্য না করে সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজের প্রতি অধিক দায়িত্ববান হয়ে উঠেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাত অবধি দাফতরিক কাজ করলেও মুখে নেই কোনো চিন্তার ভাঁজ।
মনোহরদী উপজেলায় তার উপস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দফতরের কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। কমেছে জনভোগান্তি আর বৃদ্ধি পেয়েছে জনসেবার মান। মনোহরদী উপজেলাকে একটি উন্নত আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তার যেন চিন্তার শেষ নেই। তার চিন্তার সফল বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। জনবান্ধব এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার একাধিক মহলসহ জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের বিচক্ষণ ব্যক্তিরা।
এসব উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডে ঈশ্বান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমএ মুহাইমিন আল জিহান এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক ও সোশাল মিডিয়ায় অপপ্রচারসহ কাজের গতিরোধ করতে দীর্ঘ
অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় অপ্রত্যাশিত, অযুক্তিক, দুর্নীতিবান্ধব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সায় না দেওয়ায় এ মহলটি
একজন মানবিক ইউএনও কে এ উপজেলা থেকে সরিয়ে দিতে প্রাণপণ চেষ্টা অব্যহত রাখছেন বলে জানা যায়।
উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এসএম ফারুক হোসেন বলেন,নিতান্তই ইউএনও মহোদয় একজন সহজ সরল সদা হাস্যময় পরিশ্রমি ব্যক্তি। এ ছাড়াও তিনি কখনও কোন অন্যায়কারীকে আশ্রয়-পশ্রয় দেয় না। নি:সন্দেহে তিনি একজন সৎ ও নির্লোভ নিরহংকার মানুষ। দাফতরিক কাজের বিষয়ে তিনি অত্যান্ত আন্তরিক।
লেবুতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম বলেন, ইউএনও মহোদয় অত্যান্ত ভদ্র, সৎ ও মানবিক। যোগদানের পর থেকে এলাকাবাসীর মন জয় করেছেন। এ ছাড়া তিনি একজন শিক্ষাবান্ধব ও শিক্ষানুরাগী মানুষ।
মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আমিনুর রহমান সরকার দোলন জানান, মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমএ মুহাইমিন আল জিহান উনি একজন জনবান্ধন, সৎ ও কর্মঠ ব্যক্তি। বর্তমান সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক এবং নরসিংদী ৪ (মনোহরদী - বেলাব) থেকে নির্বাচিত এমপি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্বা এড.সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল মহোদয়ের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এছাড়াও উপজেলার সকল সেক্টরের উন্নয়নমূলক কাজ এবং সরকারের নির্দেশনা বাস্তববায়ন করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমএ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, সরকারের অর্পিত দায়িত্ব সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করতে চাই। আমার উপজেলার সকল দফতরের সরকারি নির্দেশনা সফলভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভুল ত্রুটি হলে দেখিয়ে দেন আমি সবার সহযোগিতায় সমাধান করার চেষ্টা করব। সমাজে কিছু মানুষ থাকবেই যারা গুজব সৃষ্টি করে কর্মস্পৃহাকে দমিয়ে দিতে চেষ্টা করবে। গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :