শাহজাহান সাজু (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯ তম ঈদুল ফিতরের জামাত। ঐতিহ্যবাহী এ মাঠে প্রতিবারই জেলা ছাড়াও সারাদেশ থেকে কয়েক লাখ মুসুল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। ইতিমধ্যে নামাজের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ঈদ জামাতকে ঘিরে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা। এবার জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, সবশেষ তুলির আঁচড়ে রংয়ের প্রলেপ ছুঁয়ে যাচ্ছে ঈদগাহ মাঠের সীমানা প্রাচীরে। নামাজের সময় মুসুল্লিদের কাতার সোজা করার জন্য দাগ কাটাও শেষ।
প্রতি বছর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাতের জন্য নেওয়া হয় ব্যপক প্রস্তুতি। এবারও সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসুল্লিদের কথা মাথায় রেখে। এ মাঠে ঈদের একটি মাত্র জামাত সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত হবে। বংশ পরম্পরায় এ মাঠে নামাজ পড়েন দেশের বিভিন্ন জেলার মুসুল্লিরা।
শোলাকিয়ার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, "এ মাঠে লক্ষ লক্ষ মানুষের সাথে নামাজ পড়লে কোন এক জনের দোয়াও যদি আল্লাহ কবুল করেন, তাহলে আমরাও সওয়াব পাবো। কারন দোয়া সকলের জন্যই করা হয়ে থাকে। তাছাড়া এখানে ঈদের নামাজ পড়লে মনে শান্তি চলে আসে।"
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, "শোলাকিয়া মাঠে মুসুল্লীদের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। ঈদগাহ পর্যবেক্ষণের জন্য ৬ টি ওয়াচ টাওয়ার, চারটি ড্রোন ক্যামেরা ও ৬৪টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সাদা পোশাকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিসহ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে জেলা শহরসহ ঈদগাহ মাঠ।"
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, "প্রতিবারের মতো এবারও দূর-দূরান্তের মুসুল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঈদগাহে আগত মুসুল্লীদের জন্য সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।"জনশ্রুতি আছে, ১৮২৮ সালে প্রথম ঈদুল ফিতরের বড় জামাতে এ মাঠে প্রথম সোয়ালাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় "সোয়ালাখিয়া"। যা এখন শোলাকিয়া নামে পরিচিত।

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :