বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

জেলা প্রতিনিধি: এবার শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।  
বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইস্তেহার পাঠ অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী ঝিনাইগাতী) আসনের প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে বুধবার বিকেলে নির্বাচনী ইস্তেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়   ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে। উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগেই চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের তর্ক বিতর্কের জেরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা।
ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান জানান,বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে বেলা ২টার  দিকে অনুষ্ঠানস্থলে এসে দেখেন বসার ৫০০ চেয়ারের সবগুলোতে জামায়াত-শিবির কর্মীরা দখল করে নিয়েছে। এসময় তারা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করে তাদের জায়গা করে দিতে বলেন। ইউএনও এসময় মঞ্চে উপস্থিত জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলকে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানান। জামায়াত প্রার্থী তাদের নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানালেও তার কথা কেউ কানে তুলেনি। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কর এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন। এতে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, যুবদলের উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামসহ ২৫-৩০ জন আহত হন। 
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে জামায়াত শিবিরের ৮০০-১০০০ নেতা-কর্মী ছিলেন। তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশা করে রড-লাঠিসোটা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। আমরা মনে করেছি ইস্তেহার পাঠ অনুষ্ঠানে এত লোকের প্রয়োজন নেই।  
বিএনপি নেতার এ দাবি নাকচ করে শেরপুর-৩ আসনের (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের অর্ধ-শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। কিন্তু তারা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যেতে পারছেন না। সেখানে বিএনপি’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বসে আছে। 
তিনি বলেন, আমরা এখনো অনুষ্ঠানস্থলে রয়েছি। বিএনপি’র ভয়ে আমরা ভীত নই। জোর করে কেউ মাঠ দখল করতে চাইলে আমরা বসে থাকবো না। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউএনও কোনো ব্যবস্থা নেননি। বর্তমানে আমরা ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠান স্থলে আছি।
এদিকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিকেল ৫টার দিকে ঝিনাইগাতী বাজারে এক বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। এসময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা বিএনপি’র নিরীহ, শান্ত নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি এ সময় কাউকে আইন হাতে না তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। 
কিন্তু সভা শেষে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছিল। এসময় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী সংঘর্ষে থামাতে চেষ্টা করছে। 
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বেই বসা নিয়ে বাক-বিতন্ডার জেরে দু‍‍`পক্ষ সংঘর্ষে  জড়িয়ে পড়েন।  তিনি বলেন, এসময় বিএনপি প্রার্থী অনুষ্ঠান স্থলে ছিলেন না। জামায়াত প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। তিনি সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। ছবি-সংগৃহীত

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!