স্পোর্টস ডেস্ক: মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে যেন এক ম্যাচে ফুটবলের সব নাটকীয়তাই দেখা গেল। গোল, পাল্টা আক্রমণ, ভিএআরের হস্তক্ষেপ, লাল কার্ড, পেনাল্টি আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই সব মিলিয়ে রোমাঞ্চে ভরা কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকোকে। দীর্ঘ সময় একজন কম নিয়ে খেলেও অসাধারণ রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা, জুড বেলিংহামের জোড়া গোল এবং হ্যারি কেইনের পেনাল্টি থেকে করা গোলেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারিতে ছিল মেক্সিকো সমর্থকদের প্রবল উচ্ছ্বাস। সেই আবহেই আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে ম্যাচ শুরু করে স্বাগতিকরা। প্রথম মিনিটেই মোরার মাথার কাছে উঁচু পা তুলে ফাউল করায় ইংল্যান্ডের ডেকলান রাইস হলুদ কার্ড দেখেন। ম্যাচের বাকি সময় তাই বাড়তি সতর্কতা নিয়েই খেলতে হয় তাকে।
শুরুর দিকে বলের দখল এবং আক্রমণ দুই দিকেই এগিয়ে ছিল মেক্সিকো। আলভারাদো, রাউল হিমেনেস ও তরুণ গিলবার্তো মোরাকে ঘিরে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে তারা। ১৫ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগও তৈরি হয়। ডান প্রান্ত থেকে আলভারাদোর নিখুঁত ক্রসে শক্তিশালী হেড করেন হিমেনেস। কিন্তু নিচু হয়ে অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড অপেক্ষা করছিল পাল্টা আক্রমণের সুযোগের। অ্যান্থনি গর্ডনের গতিময় দৌড় মেক্সিকোর রক্ষণকে কয়েকবার অস্বস্তিতে ফেললেও ২৬ মিনিটে তার নেয়া শট সহজেই সামলে নেন গোলরক্ষক র্যাঙ্গেল।
প্রথমার্ধের শেষ ১০ মিনিটেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৩৬ মিনিটে পিকফোর্ডের দ্রুত থ্রো থেকে শুরু হওয়া পাল্টা আক্রমণে ডেকলান রাইস বল বাড়ান বুকায়ো সাকার কাছে। ডান দিক থেকে সাকার নিখুঁত ক্রস পেছনের পোস্টে পৌঁছে যায় জুড বেলিংহামের কাছে। ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা ইংলিশ মিডফিল্ডার হেডে বল জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন।
মেক্সিকো প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও বড় আঘাত হানে ইংল্যান্ড। মাত্র দুই মিনিট পর মাঝমাঠে বল কেড়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন গর্ডন। তার পাস থেকে বেলিংহাম বল দেন অধিনায়ক হ্যারি কেইনের কাছে। নিজে শট না নিয়ে কেইন নিখুঁতভাবে বল ফিরিয়ে দেন বেলিংহামকে। কাছ থেকে সহজেই নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার।
দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করলেও হাল ছাড়েনি মেক্সিকো। ৪২ মিনিটে আলভারাদোর ইনসুইং ফ্রি-কিক প্রতিহত হয়ে ছয় গজ বক্সের সামনে হুলিয়ান কুইনোনেসের কাছে এলে জোরালো ভলিতে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমান তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল কুইনোনেসের চতুর্থ গোল। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো মেক্সিকান ফুটবলারের যৌথ সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি; ১৯৯৮ সালে লুইস হার্নান্দেজও করেছিলেন চার গোল।
গোলের পর আরও চেপে বসে মেক্সিকো। যোগ করা সময়ে রাউল হিমেনেসের হাফ-ভলি অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। এরপর আলভারাদোর আরেকটি দারুণ ক্রস থেকে হিমেনেসের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন পিকফোর্ড। একেবারে শেষ মুহূর্তে কর্নার থেকে সিজার মন্টেস নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও বেলিংহামের অবিশ্বাস্য ট্যাকলে বঞ্চিত হন। প্রথমার্ধ শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই ড্রেসিংরুমে যায় ইংল্যান্ড। সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :