শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ

ডেইলি খবর ডেস্ক: লেবাননে নতুন করে শুরু হওয়া প্রাণঘাতী সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের ভঙ্গুর শান্তি চুক্তিকে শুরুর দিকেই গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে। তবে আশার কথা হলো আজ শুক্রবার (১৯ জুন) একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা (১৩০০ জিএমটি) থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতিটি ইসরায়েল ও ইরানের সাথে আলোচনার পর মার্কিন ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কূটনীতিকও এএফপি-র কাছে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উপস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারণ করা আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর, লেবাননের এই সংঘাত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধাবসানের চুক্তিটিকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল।

ইরান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের মিত্র ও অংশীদার ইসরায়েলের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ইদানীং ক্রমবর্ধমান বিরক্তি প্রকাশ করে আসছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলসহ সব ফ্রন্টে ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির’ আহ্বান জানান। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির বিষয়েও তিনি ক্রমশ সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছেন।

গত বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘যখন দুটি ড্রোন মরুভূমিতে গিয়ে পড়ে এবং কোনো ক্ষতি না করেই ভূপাতিত হয়, তখন আপনাদের বৈরুতের ভবনগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তারা আরও ভালো আচরণ করতে পারত এবং সত্যি বলতে তারা আরও পরিপক্বতার পরিচয় দিতে পারত।’

এদিকে, মার্কিন-ইরান চুক্তির সমালোচনা করার জন্য বৃহস্পতিবার ইসরায়েল সরকারের কট্টরপন্থী মন্ত্রীদের তীব্র তিরস্কার করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি তাঁদের ‘জেগে উঠে বাস্তবতাকে’ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘এই মুহূর্তে পুরো পৃথিবীতে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পই একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতিশীল। আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তবে পুরো বিশ্বে আমার একমাত্র শক্তিশালী যে মিত্রটি অবশিষ্ট আছে, আমি হয়তো তার ওপর আক্রমণ করতাম না।’

বৃহস্পতিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছিলেন যে, ট্রাম্প ‘হতাশা’ থেকে চুক্তিটি নিশ্চিত করতে সব ধরনের ‘কূটকৌশল’ ব্যবহার করেছেন। এর জবাবে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আমরা হতাশা থেকে আলোচনায় বসিনি, ইরান বসেছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের প্রক্রিয়াটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘পর্যবেক্ষণ’ করবে। তারা কোনো টাকা পাচ্ছে না, ১০ সেন্টও না!”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান কট্টরপন্থী এবং ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষই ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই দেওয়া এবং ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল দেওয়ার কারণে এই চুক্তির সমালোচনা করেছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন যে, ইরান এখন ‘দুর্বল’ হয়ে পড়েছে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!