শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩১

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩১

ডেইলি খবর ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রæয়ারি) আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় আরও ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। ইসলামাবাদ শহরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,রাজধানীর উপকণ্ঠে তরলাই এলাকার ‍‍`ইমাম বারগাহ কসর-এ-খাদিজাতুল কুবরা‍‍` মসজিদে এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
একটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপি-কে জানিয়েছে, হামলাকারীকে মসজিদের প্রবেশদ্বারে থামানো হয়েছিল এবং সেখানেই সে নিজের শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
ইসলামাবাদের একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জুমার নামাজের পর এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, এ সময় মসজিদে মুসল্লিদের বেশ ভিড় ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এএফপি-কে বলেন, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে এবং বিচারের আওতায় আনা হবে।
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান এক্স-এ জানিয়েছেন, হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে এটি ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর স্থানীয় কোনো শাখা অথবা শিয়া-বিদ্বেষী কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর কাজ।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটিই ইসলামাবাদে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। ওই সময়ে পাঁচ তারকা ম্যারিয়ট হোটেল ভবনের আংশিক ধ্বংসকারী একটি আত্মঘাতী ট্রাক বোমা হামলায় ৬০ জন নিহত হয়েছিল।
রক্তাক্ত পোশাক ও ধ্বংস্তূপ-‍‍`পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস‍‍` হাসপাতালে এএফপি সাংবাদিকরা দেখেছেন, শিশুসহ অনেককে স্ট্রেচারে করে অথবা হাত-পা ধরাধরি করে ভেতরে নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অ্যাম্বুলেন্স এবং বিভিন্ন যানবাহনের পেছন থেকে রক্তভেজা পোশাকে থাকা ভুক্তভোগীদের নামাতে সাহায্য করছিলেন।
এ সময় হাসপাতালের কড়া পাহারায় থাকা জরুরি বিভাগের সামনে আহতদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। অন্যদিকে মসজিদের সামনে এএফপি-র আরেকটি দল দেখেছে, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং মাটিতে রক্তের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তদন্তস্থলের চারপাশে হলুদ ‍‍`ক্রাইম সিন‍‍` টেপ লাগানো হয়েছে এবং চারপাশে জুতো, কাপড় ও ভাঙা কাঁচ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, মসজিদের সদর দরজার কাছে বেশ কয়েকটি মরদেহ পড়ে আছে এবং লাল গালিচা বিছানো মসজিদের ভেতরেও মানুষ ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এই হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ এবং ইসলামি আদর্শের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বাড়তে থাকা বিদ্রোহ-এই হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী দক্ষিণ ও উত্তরের প্রদেশগুলোতে ক্রমশ তীব্রতর হতে থাকা বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
পাকিস্তান একটি সুন্নি প্রধান দেশ হলেও সেখানে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিয়া জনগোষ্ঠী বাস করে, যারা অতীতেও এই অঞ্চলে বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ইসলামাবাদ দাবি করেছে, দক্ষিণ বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং উত্তরের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পাকিস্তানি তালেবান ও অন্যান্য কট্টরপন্থী জঙ্গিরা আফগান ভূমিকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বারবার পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এ ধরনের ঘটনায় সম্প্রতি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে এবং সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে অহরহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ছবি : এএফপি

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!