শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের

ডেইলি খবর ডেস্ক: ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি ওমানের রাজধানী মাসকাটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করেন। সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ শান্তিদূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি ওমানের রাজধানী মাসকাটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করেন। সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ শান্তিদূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেনছবি: এএফপিতেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ শান্তিদূত স্টিভ উইটকফ আজ শুক্রবার সকালে ওমান সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে দেখা করেন। গত গ্রীষ্মের ১২ দিনের সংঘাতের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি আলোচনা হলো।কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের কাছাকাছি মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যাকে ট্রাম্প একটি ‘আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার হুমকি দিয়েছেন, ইরান নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তিতে সই না করলে তিনি সামরিক ব্যবস্থা নেবেন।শুক্রবার আলোচনার আগে ইরানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের ‘এখনই ইরান ছাড়ার’ নির্দেশ দেয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি বা হঠকারিতা’র বিরুদ্ধে ইরান নিজেকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।
ইরানের প্রধান মিত্র চীন জানিয়েছে, তারা তেহরানের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে সমর্থন করছে। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের ‘একতরফা গুন্ডামি’র বিরোধিতা করছে।
ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল ইরানের ‘শূন্য পারমাণবিক সক্ষমতা’র বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে ‘অনেক বিকল্প খোলা আছে’।
ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি হচ্ছে, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নষ্ট করে ফেলতে হবে। তবে আলোচনায় তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। ইরান সম্ভাব্য মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকির পাশাপাশি এ-ও বলেছে, আলোচনার আগে ‘কূটনীতি ব্যবহারের সুযোগ হাতছাড়া’ করতে চায় না তারা।
সম্মেলনের আগে এই আলোচনায় আঞ্চলিক দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে মতবিরোধ ছিল।
নিউইয়র্ক টাইমস অজ্ঞাতনামা ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনা থেকে আঞ্চলিক পক্ষগুলোকে বাদ দিতে রাজি হয়েছে। যদিও আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু পারমাণবিক ইস্যু, তবু একটি চুক্তির কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে ক্ষেপণাস্ত্র এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়েও এখানে আলোচনা করা হবে।
ইরানের ইসলামি নেতাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী চলা আন্দোলনের রেশ কাটার এক মাসের কম সময়ের মধ্যে এই বৈঠক হচ্ছে। পশ্চিমাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, সহিংসভাবে বিক্ষোভ দমনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) আলোচনা করছে। তারা চায় না, আমরা তাদের ওপর হামলা করি। আমাদের একটা বড় নৌবহর সেখানে যাচ্ছে।’
ট্রাম্প প্রথমে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি বিক্ষোভকারীদের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন, সাহায্য ‘আসছে’।তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার দিকে ঝুঁকেছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করছে, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর ‘সব বিকল্পই খোলা রাখবেন’।ভ্যান্স আরও বলেন, তিনি সবার সঙ্গেই কথা বলবেন, সামরিক পথ ছাড়াই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করবেন। তবে যদি তিনি মনে করেন, সামরিক পদক্ষেপই একমাত্র পথ, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেটিই বেছে নেবেন। ইরানের দাবি, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। ধারণা করা হয়, সেই হামলায় তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। এতে তাদের কর্মসূচি কয়েক বছর পিছিয়ে গিয়েছে। সুত্র-দ্য টেলিগ্রাফ

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!