রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানে পূর্ণমাত্রার নতুন হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের?

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

ইরানে পূর্ণমাত্রার নতুন হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের?

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার পরিবর্তে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল- সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন এক বিশ্লেষক।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইসরায়েল সফর এবং অঞ্চলটির কিছু কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার খবর নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

তার মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা সামরিক অভিযান চালানোর দিকে এগোচ্ছে।

দোহা থেকে আল-জাজিরাকে এলমাসরি বলেন, “অনেক সংকেত ও শক্তি প্রদর্শন দেখা যাচ্ছে, যা থেকে মনে হচ্ছে, আমরা আরেক দফা লড়াইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”

তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করেছেন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি অঞ্চলটির কিছু কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

এলমাসরি বলেন, “এসব ঘটনাই ইঙ্গিত দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শিগগিরই- হয়তো খুব শিগগিরই- ইরানের ওপর আরেক দফা হামলার পরিকল্পনা করছে।”

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি। তার বক্তব্য মূলত সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ভিত্তিতে করা মূল্যায়ন।

আগের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে সংঘাত
নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়েও বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলমাসরি।

তিনি বলেন, “আশঙ্কার একটি দিক হলো, এবারের লড়াই আগের দফার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক ও ভয়াবহ হতে পারে।”

তার এই আশঙ্কার পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান। নতুন করে হামলা শুরু হলে পাল্টা আক্রমণ, আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার এবং সামরিক স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

শান্তি আলোচনা, নাকি সামরিক প্রস্তুতি?
ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানে হামলার সম্ভাবনার কথা বলার পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগও খোলা রেখেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েন এবং কিছু স্থাপনা থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার খবর নতুন হামলার আশঙ্কাকে জোরালো করেছে বলে মনে করছেন এলমাসরি।

তবে সামরিক প্রস্তুতি বা নিরাপত্তার কারণে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাই যে আসন্ন হামলার চূড়ান্ত প্রমাণ, তা নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে নতুন হামলার সময়সূচি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখানে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা উল্লেখ করা হয়নি।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। আরেক দফা যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে- তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। ফাইল ছবি, সূত্র: আল-জাজিরা

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!