বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

আমি এমন কী করেছিলাম? কারামুক্ত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমি

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

আমি এমন কী করেছিলাম? কারামুক্ত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমি

ডেইলি খবর ডেস্ক: দীর্ঘ দুই মাস কারাভোগ শেষে মুক্তি পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। মুক্ত বাতাসে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি পরিবারের ক্ষতি, ব্যক্তিগত জীবনের অনিশ্চয়তা এবং কারাভোগের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “আমি এমন কী করেছিলাম?”
হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্র্বতীকালীন জামিনে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার।তিনি বলেন, জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ইমিকে মুক্তি দেওয়া হয়।কারাগার থেকে বের হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায় ইমিকে। এ সময় তিনি বলেন, মেঝো ভাইয়াকে আর কখনো দেখতে পাবো না। কী মূল্য আমাকে দিতে হচ্ছে সেটা আমি জানি।
‘আমি এমন কী করেছিলাম?’ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমি আমার পরিবারকে যেভাবে রেখে গিয়েছিলাম, তেমনটাতো এখন আর নেই। এর মধ্যে আমাকে অনেক কিছু হারাতে হয়েছে
তিনি আর বলেন, মাস্টার্স পরীক্ষার জন্য আমার বিয়েটা আটকে ছিল। এখন সেই মাস্টার্স পরীক্ষাও আমি দিতে পারছি না।যাদেরকে মিথ্যা মামলায় জেলে দেওয়া হয় তারা কষ্টটা জানে দাবি করে ইমি বলেন, আমি আহ্বান জানাব, সরকার যেন সবাইকে একই রকম ট্রিট না করে। কার কী অপরাধ সেই অনুযায়ী তাদের শাস্তি দেওয়া উচিত।ইমির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল তিনি অন্তর্র্বতীকালীন জামিন পান। এর আগে একবার তার জামিন আবেদন নাকচ হয়েছিল।
কারামুক্তির বিষয়টি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহা. নোমান হোসাইন। তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। কারামুক্ত ইমি, পাশে থাকা সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ মার্চ রাত সাড়ে নয়টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমিসহ কয়েকজন।
রিকশায় করে মাইকে ভাষণ বাজানোর সময় ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল এতে বাধা দেয়।এক পর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী রিকশাসহ শেখ তাসনিম আফরোজ এবং আবদুল্লাহ আল মামুনকে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। এ সময় থানার ভেতরেই আবদুল্লাহ আল মামুনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।পরে পুলিশ তাদের আটক করে রাখে। পরদিন থানা হেফাজতে আটক থাকা আসিফ আহমেদ সৈকতসহ তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করে পুলিশ।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ইমির জামিন আবেদন শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ অন্তর্র্বতীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।আদালতে ইমির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহা. নোমান হোসাইন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন।
পরে গণমাধ্যমকে মুহা. নোমান হোসাইন বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ দলীয় স্লোগান নয় কিংবা নিষিদ্ধ কিছু নয়। ইমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সারবত্তা নেই। জামিন আবেদনকারী একজন নারী, তিনি ৫৩ দিন ধরে কারাগারে আছেন— মূলত এসব যুক্তিতে জামিন চাওয়া হয়। হাইকোর্ট অন্তর্র্বতীকালীন জামিন দিয়েছেন। ফলে তার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।’ছবি-সংগৃহীত

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!