ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির সুরে কথার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলকে মূল্য চুকাতে হতে পারে বলে শঙ্কায় আছেন রিপাবলিকানরা। প্রকাশ্যে কেউ তেমন উচ্চবাচ্য না করলেও, ব্যক্তিগত গ্রুপ চ্যাট এবং বিভিন্ন বৈঠকে কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও অস্বস্তি বাড়ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।
চলতি মাসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় ধরনের হারের ঝুঁকি দেখছেন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের হুমকির সুরে কথা স্বতন্ত্র ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, যা রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।
প্রায় ১০০ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার গোষ্ঠী ‘মেইন স্ট্রিট ককাস’-এর মধ্যে এমনই এক আলাপচারিতায় ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা সাম্প্রতিক এক হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। ওই পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, আজ রাতেই পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন তিন হাউস রিপাবলিকানের উদ্ধৃতি দিয়ে সিবিএস নিউজ তাদের প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে।
আলাপচারিতায় একজন আইনপ্রণেতার প্রশ্ন ছিল, প্রশাসনের ব্যয়বহুল ইরান যুদ্ধকে যারা সমর্থন দিচ্ছেন, তাদের জন্য ট্রাম্পের এমন কথাবার্তা কীভাবে সহায়ক হতে পারে? ট্রাম্পের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে সহায়ক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।এক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এনবিসি নিউজকে জানান, মানুষ চরম ক্ষুব্ধ। তাছাড়া অর্থনীতির অধঃপতন, বিশেষ করে জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি ভোটারদের ভাবাবেগে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উদ্বেগ রয়েছে।
আরেক হাউস রিপাবলিকানের বক্তব্য ছিল, মানুষ আর্থিক দিকটির কথা মাথায় রেখেই ভোট দেয়। গ্যাসের দাম যদি নেমে না আসে, তাহলে ইরান যুদ্ধ মধ্যবর্তী নির্বাচনে একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেশ কিছু রিপাবলিকান কৌশলবিদ মনে করছেন, বর্তমানে দলের ভোটারদের কাছে তুলে ধরার মতো স্পষ্ট বার্তা কিংবা কৌশলের অভাব আছে। এটিও মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দিয়ে উদ্বেগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য বড় বাজেট প্রস্তাব এবং তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ভোটাররা অসন্তুষ্ট। মানুষ পকেটবুক বা অর্থনৈতিক অবস্থা দেখে ভোট দেয়, এমনটাই মনে করছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। ট্রাম্পের উস্কানিমূলক বার্তা রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরেই উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কারণ, এটি নির্বাচনী প্রচারণায় সহায়ক নয় বলে তারা মনে করেন। যুদ্ধের ব্যয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতা স্বতন্ত্র ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলছে, যা রিপাবলিকানদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ছবি-সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :