ডেইলি খবর স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানের পরাজয় এবং কোচ থমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় চলছে। তাতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ পারফর্ম করা হ্যারি কেইনকে দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণভাগে খেলানোর টুখেলের সিদ্ধান্তকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের এই শীর্ষকর্তা এক অনুষ্ঠানে হাস্যরসাত্মক সুরে বলেন, ‘ইংল্যান্ডের একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছেন, যার সঙ্গে আমি গলফ খেলেছি। তিনি হ্যারি কেইন। তিনি দুর্দান্ত খেলছেন। আমার মনে হয় তারা তাকে রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় বানিয়ে বড় ভুল করেছে। আমি সকার (ফুটবল) সম্পর্কে কী-ই বা জানি? তারা লিড নিলো, আর তাদের সেরা খেলোয়াড়টিকে ডিফেন্সে পাঠিয়ে দিল! আমাদের একটু আক্রমণাত্মক হওয়া উচিত ছিল, তাই না?’
ইংলিশ কোচ টুখেল অবশ্য ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সংবাদ সম্মেলনে বেশ হালকাভাবেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই ফুটবল-জ্ঞানের চেয়েও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তার গভীর সখ্য এবং মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড মওকুফ প্রসঙ্গে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড পাওয়া বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অবিশ্বাস্যভাবে ১২ মাসের জন্য স্থগিত করে ফিফা।
ট্রাম্প টাওয়ারে ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে ট্রাম্প অকপটে স্বীকার করেন সেই লবিংয়ের কথা, “আমি জিয়ান্নিকে (ইনফান্তিনো) ফোন করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, ‘জিয়ান্নি, আমি একটা অভিযোগ জানাতে চাই, ছেলেটাকে খেলায় ফিরিয়ে নাও।’ আসলে আমি জানতাম না কী হতে যাচ্ছে, তবে যেভাবে সব হলো তা দারুণ।”
ফিফা প্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের এই পিঠ-চাপড়ানি ক্রীড়াঙ্গনে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যদিও মাঠের বাইরে ভিসা জটিলতা, অতিরিক্ত টিকিটের মূল্য এবং অতিনির্ভর বাণিজ্যিকীকরণের কারণে ইনফান্তিনো কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন। তবুও ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ইনফান্তিনো বলেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমেরিকান স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আমরা আমেরিকায় পুরো বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করেছি।’
সমালোচকরা বলছেন, টুর্নামেন্ট থেকে রেকর্ড ৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের পূর্বাভাসের কারণেই ইনফান্তিনো এত নিশ্চিন্ত। তাদের মতে, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, বরং ফুটবল কূটনীতি ও কর্পোরেট ক্ষমতার এক নজিরবিহীন প্রদর্শনী হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছে।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :