ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর শুল্ক নীতির বড় অংশকে অবৈধ ঘোষণা করার ঠিক একদিন পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২১ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বিশ্বব্যাপী শুল্কের হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর আগ্রাসী শুল্ক নীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
শনিবার নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তাঁর শুল্ক কর্মসূচিকে সংকুচিত করার বিষয়ে আদালতের শুক্রবারের ‘চরম আমেরিকা-বিরোধী সিদ্ধান্তটি’ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর তাঁর প্রশাসন আমদানিকৃত করের হার বাড়িয়ে ‘সম্পূর্ণ অনুমোদিত এবং আইনের মাধ্যমে পরীক্ষিত ১৫ শতাংশ স্তরে’ নিয়ে যাচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরপরই মার্কিন নেতা শুরুতে ১০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, আগামী কয়েক মাসে তাঁর প্রশাসন ‘আইনের মাধ্যমে অনুমোদিত’ শুল্ক আরোপের জন্য আরও বিকল্প পথ খুঁজবে।
গত এক বছর ধরে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানো দেশগুলোর ওপর অসংখ্যবার শুল্ক নির্ধারণ, পরিবর্তন বা বাতিলের যে অস্থিতিশীল প্রক্রিয়া চলছে, শনিবারের ঘোষণাটি তারই সর্বশেষ সংস্করণ।
আপাতদৃষ্টিতে এটি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে পাশ কাটানোর একটি প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে। উল্লেখ্য, আদালত এই রিপাবলিকান নেতার ব্যাপক ও প্রায়শই খামখেয়ালি শুল্কের কঠোর সমালোচনা করেছিল, যা ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
আইন অনুযায়ী এই নতুন শুল্ক অস্থায়ী ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। হোয়াইট হাউসের তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, ঔষধ শিল্পসহ যে খাতগুলো আলাদা পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার চুক্তির অধীনে যে পণ্যগুলো প্রবেশ করছে, সেগুলো এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
ট্রাম্প গত বছরের বড় একটি সময় বন্ধু ও শত্রু নির্বিশেষে বিভিন্ন দেশকে প্রলুব্ধ করতে বা শাস্তি দিতে শুল্কের বিভিন্ন হার ব্যবহার করেছেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে যে সব বাণিজ্যিক অংশীদাররা আলাদা শুল্ক চুক্তি করেছে, তাদেরও এই নতুন বৈশ্বিক শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে।
রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতার উচ্চ আদালত শুক্রবার ৬-৩ ব্যবধানে রায় দিয়েছিল যে, বিশ্ববাণিজ্যকে ওলটপালট করে দিয়ে বিভিন্ন দেশের ওপর হঠাৎ শুল্ক চাপানোর জন্য ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের যে আইনের ওপর নির্ভর করেছিলেন, তা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে না।
আদালতের যে বিচারকরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাদের মধ্যে দুজনকে ট্রাম্প নিজেই মনোনীত করেছিলেন। এই রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেন যে, আদালত বিদেশি স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি আদালতের নির্দিষ্ট কিছু সদস্যের জন্য লজ্জিত, চূড়ান্তভাবে লজ্জিত; কারণ দেশের জন্য যা সঠিক তা করার সাহস তাদের নেই।’-সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :